রিদুয়ান ইসলাম, জবি

  ০৭ এপ্রিল, ২০২১

ক্যাম্পাস খোলার প্রতীক্ষায়

প্রতিটি শিক্ষার্থীর আবেগ-অনুভূতির জায়গা হলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। আর সেই ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আনন্দ বিনোদন পাওয়া দিনগুলো কখনো ভোলার মতো নয়। কিন্তু সেই আনন্দের মধ্যে ভাগ বসাতে হঠাৎ করে চলে এলো এক অদৃশ্য, প্রাণঘাতি মহামারি ভাইরাস করোনা। যা এখন পুরো বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। কবে মুক্তি পাব এই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে, তাও জানা নেই কারো। দিনে দিনে বেড়ে চলেছে এই ‘করোনা আক্রমণের হার। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না ‘করোনা’ নামক অদৃশ্য শক্তিকে। তবু মোকাবিলার চেষ্টায় বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসে অবসর সময় কাটিয়ে দিন পার করছেন। সবাই খুব মিস করছে ক্যাম্পাসের আনন্দ বিনোদনের দিনগুলো।

বিশ্ববিদ্যালয় চলাকালে সকালে ঘুম থেকে ওঠে ক্লাস, বিরতি সময়ে ক্যাফেটেরিয়ায় বসে সমুচা-শিঙারা খাওয়া, ক্লাস শেষে টিএসসিতে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে চা আড্ডা, ফেরার পথে লাল বাসে বেসুরা কণ্ঠে গান গাওয়া এসবই এখন যেন পুরোনো অতীত হয়ে গেছে। বাড়িতে বসে বসে এখন প্রতিটি শিক্ষার্থী এখন সোনালি ক্যাম্পাস দিনগুলোর কথা মনে করে স্মৃতিবিজড়িত হন। কতই সুন্দর যাচ্ছিল আমাদের ক্যাম্পাস জীবন! তবে হ্যাঁ ‘করোনা’ নামক মহামারি না এলে বন্ধুদের প্রতি, ক্যাম্পাসের প্রতি যে টান, ভালোবাসা তা হয়তো কখনো উপলব্ধি হতো না। সেদিক থেকে ‘করোনা’ সোনালি দিন কাটানোর সময়টা উপলব্ধি করার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

------
একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীরা এসব আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি বললেই চলে। মাত্র তিন মাসেরও কম সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করার সুযোগ হয়েছে। এ সময়টিতে একে অপরের সঙ্গে ভালোভাবে পরিচিতিও হতে পারেনি। অনেকে বলে, ফার্স্ট ইয়ার, ডোন্ট কেয়ার। সবচেয়ে উল্লাসে থাকত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরাই। সেদিক থেকে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত রয়ে গেল ক্যাম্পাস জীবনের মজা উপভোগ করা থেকে। সব নবীন শিক্ষার্থীর মনে এখন একটাই প্রতীক্ষা, কবে প্রাণ প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে বন্ধুদের উল্লাসে মত্ত হবেন। সবাই আশাবাদী খুব অচিরেই চলে আসবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সোনালি শিক্ষাজীবন।

খুব ব্যস্তময় ক্যাম্পাসটা এখন বিরাজ করছে শূন্যতায়। যে ক্যাম্পাসটা সবাইকে আনন্দ বিনোদন দিত সে নিজেই এখন একাকিত্বের রোগে ভুগছে। ফাঁকা পড়ে রয়েছে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ক্লাসরুমগুলো। হয়তো ধুলোবালিতে ভরে একাকার হয়ে আছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা অডিটোরিয়ামগুলোও খুব নীরবে, একাকিত্বে দিন পার করছে। সেমিনার, ক্লাসরুম, সাহিত্য চর্চা, খেলাধুলা, বিনোদন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো অপেক্ষায় আছে, কবে ফিরবে মেধাবীরা, কবে হই-হুল্লোড়ের মাধ্যমে মাতিয়ে তুলবে সবগুলো সংগঠন ও পুরো ক্যাম্পাস। আর এদিকে সব শিক্ষার্থী প্রিয় ক্যাম্পাস খোলার প্রতীক্ষায় রয়েছে। সবশেষে একটাই প্রত্যাশা, খুব অচিরেই যেন এই মহামারি করোনা পৃথিবী থেকে ওঠে যায়। আবারও যেন আমরা প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরে সঠিকভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষা জীবনের সোনালি দিনগুলো উপভোগ করতে পারি। সব বন্ধু মিলে আবারও মুখরিত করতে চাই প্রাণের ক্যাম্পাসকে। সেদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ হয়ে আছি আমরা। ততক্ষণ পর্যন্ত প্রিয় মানুষগুলো যেন ভালো থাকে, সুস্থ থাকে এটাই আশা। আরোগ্য লাভ করে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক পৃথিবী।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close