শিক্ষার্থীদের মণিকোঠায় উপাচার্য

প্রকাশ | ২৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

রাকিবুল ইসলাম রাকিব

সাধারণ সম্পাদক, ইবি ছাত্রলীগ

 

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোনো উপাচার্য মেয়াদপূর্ণ করতে পারেননি। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ৪ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গদি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন সাবেক উপাচার্যগণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য হিসেবে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুন উর রশিদ আসকারী। আগামী ২ মাসের মাথায় মেয়াদপূর্ণ হতে চলছে। এই দীর্ঘ ৪ বছরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও শিক্ষার জন্য কেমন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন? প্রশাসক হিসেবে কেমন? বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে, সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে আসকারীর অবদান কেমন ছিল এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের ভাবনা তুলে ধরেছেন মাহমুদুল হাসান কবীর।

খুব চ্যালেঞ্জিং সময়ে নিয়োগ পান কঠোরভাবে মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী একজন কলামিস্ট, লেখক, গবেষক ও ইংরেজি বিভাগের জনপ্রিয় অধ্যাপক ড. রশিদ আসকারী। দায়িত্ব পালনের ৪ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ২০ আগস্ট। দীর্ঘ এই পথপরিক্রমায় তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সেক্টরে এনেছেন আমূল পরিবর্তন। বিশেষ করে শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিগত দিনগুলোতে নিয়েছিলেন নানামুখী উদ্যোগ যার মধ্যে সেশনজট নিরসন অন্যতম; যা শিক্ষার্থীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। দক্ষ একজন প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ইতোমধ্যে তিনি প্রমাণ দিয়েছেন তিনিই সেরা এবং মেয়াদ পূর্ণ করতে যাচ্ছেন এই প্রথম কোনো ভিসি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে এবং যে চলমান অগ্রগতি রয়েছে, তা ধরে রাখতে আসকারী স্যারের বিকল্প নেই।

জান্নাতুল ফারজানা

শিক্ষার্থী, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ

 

আমার দেখা সবচেয়ে দায়িত্ববান উপাচার্য অধ্যাপক ড. রশিদ আসকারী। ইবিতে ভর্তির আগে শুনতাম এখানে শিবিরের আখড়া, সেশনজটে জর্জরিত। কিন্তু ২০১৭-১৮ সেশনে ভর্তির পর এসব কিছুই দেখিনি। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর কথামতো সেশনজট জাদুঘরেই পাঠিয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া সময়োপযোগী বিজ্ঞানের অনেক বিভাগ খোলে পরিসর বৃদ্ধি করা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন।শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সর্বাত্মক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, যা চোখে পড়ার মতো। ভাষার মাসে বইমেলার আয়োজন একমাত্র স্যারের জন্যই সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের পথে এগিয়ে নিতে স্যারের অবদান অনেক। স্যারের জন্য অনেক অনেক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা। আগামীতেও তাকে ভিসি হিসেবেই দেখতে চাই। আমাদের প্রিয় অভিভাবক বেঁচে থাকুক আমাদের প্রিয় ভিসি হিসেবেই।

 

মারিয়া তানজিম

শিক্ষার্থী, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

 

চার বছরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রশিদ আসকারী এত বছরের মুখ্য যে সমস্যাটা ছিল তার শেকড় উপরে ফেলেছেন। শিক্ষার মান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তার অবদান নেই। এমন ছাত্রবান্ধব ভিসি কে না চান, যার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দূরত্ব নেই বললেই চলে। প্রশাসক হিসেবে তুলনা হয় না। বারবার আন্দোলনের মুখে পড়া ইবিতে যখন আমরা শঙ্কায় পড়েছি এই বুঝি ক্লাস বন্ধ হয়ে যাবে, তখনি মনে হয়েছে এটা তো আর সেই ইবি নেই। ছাত্র, কর্মকর্তা কর্মচারীদের সব আন্দোলন শক্ত হাতে মোকাবিলা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সর্বদা সচল রেখেছেন। শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া এই মানুষটি শিক্ষার্থীদের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছেন। ইবির ইতিহাসে তিনি যেমন একমাত্র সফল ভিসি; তেমনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একজন সুযোগ্য অভিভাবক। ইবিকে এখনো অনেক দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে। দূরত্ব যদি তার রূপকারের হাতেই সম্পন্ন হয়, তাহলে তা পাবে পরিপূর্ণতা। আমি চাই আসকারী স্যারকে আবার উন্নয়নের মশাল হাতে ইবির প্রতিটা অলিগলিতে। এই চাওয়া শুধু আমার নয়, হাজারো শিক্ষার্থীর।

 

আবদুর রউফ

সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী, ইবি

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুন উর রশিদ আসকারী দায়িত্ব ¡গ্রহণের পর থেকে অবকাঠামো উন্নয়ন, দীর্ঘদিনের সেশনজট নিরসনসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মচাঞ্চল্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে; যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এই দীর্ঘ ৪ বছরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও শিক্ষার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও ভর্তি ফি তিন গুণ বৃদ্ধিসহ নামে-বেনামে অনেক ফি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ করে আবার চালু করা হয়েছে; যা আবার সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মর্মাহত করেছে। প্রশাসক হিসেবে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে তার সময়ে প্রগতিশীল শিক্ষকদের মধ্য যে বিভক্তির রাজনীতি চরম আকার ধারণ করেছে

তা সত্যিই অপ্রত্যাশিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে

ভিসি স্যারের যে ভূমিকা তার প্রতি

আমরা চিরকৃতজ্ঞ।

 

আসমাউল হুসনা সাবিস্তা

শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ

 

আমার নজরে উপাচার্য ড. রশিদ আসকারী একজন সুদক্ষ ব্যবস্থাপক, ন্যয়নিষ্ঠবান, পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও পরিবর্তনের নায়ক। ভৌগোলিক, পারিপার্শ্বিক, রাজনৈতিক, সামাজিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় জর্জরিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছিলাম এবং অলীক আশায় বুক বেঁধে ছিলাম, পরিবর্তন আসবে; যা স্যারের হাত ধরে ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিতে দেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা এবং যুগোপযোগী পরিবর্তনের ছোঁয়ায় বিকশিত হতে দেখেছি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে গর্বিত হয়েছি। এসব পরিবর্তনের কান্ডারী হিসাবে আমাদের শ্রদ্ধেয় অভিভাবক, ভিসি স্যার সুদক্ষ হাতে নিবিড়ভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে সর্বদাই সামনে পেয়েছি তাকে। এমন একজন লেখক, কলামিস্ট,

কথাসাহিত্যিক, আলোচক, রাজনীতি বিশ্লেষক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ বহুগুণে গুণান্বিত ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে পাওয়া সত্যিই আমাদের সৌভাগ্য। দ্বিতীয় দফায় এমন একজন পরিবর্তনের কান্ডারীকে উপাচার্য হিসেবে পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আশার প্রদীপ সর্বদা দীপ্তমান থাকবে।

 

* ক্যাম্পাস ডেস্ক

 

 

"