ব্রেকিং নিউজ

চন্দন চৌধুরী

১৫ আগস্ট

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী বললেন, সে রাতে চাঁদ ছিল না

একজন প্রকৃতিবিদ বললেন, সে রাতে সমস্ত পাখি চিৎকার করেছিল

একজন কবি বললেন, আঁধারের বেশে নেচে উঠেছিল গুপ্ত গোর্খা

আর একজন বাঙালি বললেন, সে-রাতে লুপ্ত হয়েছিল চৈতন্য আমার

 

সে-রাতে পিতা যখন সিঁড়ি ভেঙে নামছিলেন

তার সঙ্গে নামছিল পদ্মা-মেঘনা-যমুনা

তার সঙ্গে নামছিল বাংলার দোয়েল শালিক

তার সঙ্গে নামছিল বাংলার শস্যের শোভা

 

ঘাতক যখন দেখল পিতার অনঢ় স্থির ধানের মতন মুখ

যমদূত থেকে মুহূর্তে মানুষ হয়ে গেল

তার মুখে ভেসে এলোÑ স্যার

সটান দাঁড়িয়ে সে করল স্যালুট

 

স্যালুট করল তার মেশিনগান

সে দেখলÑ এমন সূর্যবান পিতা

এমন দীপ্রমান অধীশ্বর

এমন গৌরবদীপ্ত মানুষকে হত্যা করা যায় না

হত্যা করলেও মরে না

মৃত্যুতেও সে অমর, মনোহর অধিক

 

তখনো অসংখ্য হাঙর ছুটছিল এপাশ-ওপাশ

একটি বলছিলÑ

তার মুখের দিকে তাকালে তাকে হত্যা করা যাবে না

একটি বলছিলÑ

তার সঙ্গে কথা বললে তাকে হত্যা করা যাবে না

একটি বলছিলÑ

তার চোখের দিকে তাকালে মানুষ মোহিত হয়ে যায়

 

তখন

একটা সিসামাখা আঙুল

একটি দ্যুতিহীন সর্পহাত

অন্ধ-কামনায় চিৎকার করে ওঠেÑ

কোনো কথা নয়

কোনো দেখা নয়

শুধুই ফায়ার ঠা ঠা ঠা ঠা

 

রক্তলাল হয়ে উঠল পদ্মা-মেঘনা-যমুনা

আকাশ কাঁপানো চিৎকার করে উঠল বাংলার সমস্ত পাখি

আর মুহূর্তে মিলিয়ে গেল বাংলার সব শস্যের শোভা...

 

পিতার মৃত শরীরকেও ভয় পেল ঘাতকের দল

তাকাতে ভয় পেল

স্পর্শ করতে ভয় পেল

এবং দেখতে পেল

একটা মৃত শরীরের তাপ দূর থেকেও সহ্য করতে পারছে না তারা

পুড়ে যাচ্ছে

জ্বলে যাচ্ছে চোখ

ছাই হয়ে যাচ্ছে যেন তারা

এবং বুঝল- জ্যোতির্ময় পুরুষকে মেরে ফেলা যায় না

বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলা যায় না

কখনো মরে না মুজিব।

 

"