আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ২৫ জুন, ২০২৪

এবার সৌদিতে পবিত্র হজে গিয়ে মারা গেছেন ১৩০১ জন

এবার পবিত্র হজ পালনে গিয়ে সৌদি আরবে ১৩০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহাদ আল-জালাজেল। তার দাবি, তাদের বেশির ভাগই ছিলেন অননুমোদিত হজযাত্রী, যারা পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়াই প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দীর্ঘ পথ হেঁটে এসেছিলেন। খবর বিবিসির।

সৌদি আরবে চলতি মৌসুমে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই পবিত্র হজ পালিত হয়েছে। সৌদির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হজের সময় এবার তাপমাত্রা চড়েছিল ৫১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে এবার হজযাত্রী মারা গেছেন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার অন্তত ১০টি দেশের ১ হাজার ৩০১ জন মুসল্লি মারা গেছেন। হজপালনে এসে এবার সর্বাধিক মারা গেছেন মিসরীয় নাগরিক। এর আগে আরব কূটনীতিকরা জানিয়েছিলেন, নিহতদের মধ্যে ৬৫৮ জনই মিসরীয় এবং তাদের মধ্যে ৬৩০ জনই ছিলেন অনুমোদনহীন।

সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহাদ আল-জালাজেল বলেন, বিস্তৃত পরিসরে রোগবালাই বা কোনো মহামারি ছাড়াই এবার পবিত্র হজ ‘সফলভাবে’ সম্পন্ন হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহাদ বলেন, তথ্য সমন্বয়ে দেখা গেছে, এবার মারা যাওয়া হজযাত্রীদের ৮৩ শতাংশই ছিলেন অননুমোদিত-অনিবন্ধিত। তারা পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা আরাম করা ছাড়াই সরাসরি প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দীর্ঘ পথ হেঁটে এসেছিলেন।

চরম আবহাওয়া ও প্রচণ্ড গরমে সতর্কতা জারির পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও অনেকেই তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের শিকার হয়েছে।

সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ বলছে, যারা মারা গেছে গেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বয়স্ক। অনেকে ছিলেন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত। অনেক হাজি জীবনের শেষপ্রান্তে এসে হজপালনে যান। তাদের আশা থাকে, হজে গিয়ে সেখানেই যেন তাদের মৃত্যু হয়। হজপালনের সময় মৃত্যুবরণকে সৌভাগ্যের মনে করেন তারা।

হজ করতে প্রত্যেককে হজ ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। কিন্তু প্রতি বছর অনেকেই অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশ করে হজের কাফেলায় ঢুকে পড়েন। তাদের নির্ধারিত আশ্রয় কিংবা বিশ্রামের সুযোগ থাকে না। অনেককে শনাক্ত করে ফেরত পাঠানো হলেও অননুমোদিত সবাইকে ধরাটা সম্ভব হয় না। এই ‘অনুমোদনহীন হজ’ সমস্যাকে এবার অতিরিক্ত মুসল্লির মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের দাবি,সরকারের ব্যর্থতা নয় : হজের সময় ঘটে যাওয়া শত শত মৃত্যুর ঘটনায় সৌদি সরকারের কোনো ব্যর্থতা ছিল না বলে দাবি করেছেন দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়নি, তবে ঝুঁকিগুলো উপলব্ধি করতে না পারা কিছু মানুষের ভুল বিচার ছিল।’

সৌদি ওই কর্মকর্তা জানান, হজের ব্যস্ততম দুই দিনে- শনিবার আরাফাতের ময়দানে এবং রবিবার মিনায়- ৫৭৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সৌদি সরকার।

তিনি বলেন, ‘এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং তীব্র তাপমাত্রার মধ্যে।’

সৌদি কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, এ বছর প্রায় ১৮ লাখ হাজি হজ পালন করেছেন, যা গত বছরের মতোই। এর মধ্যে ১৬ লাখ হাজি বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছিলেন।

অনুমতি ছাড়া হজ : কোটাপদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে হজের অনুমতি বরাদ্দ করা হয় এবং লটারির মাধ্যমে ব্যক্তিদের মধ্যে তা বিতরণ করা হয়। অনুমোদন পেতে সক্ষমদের ক্ষেত্রেও, অত্যধিক খরচের কারণে অনেক হাজি অনুমতি ছাড়াই হজপালনের চেষ্টা করেন। যদিও তারা ঝুঁকি নেন, কারণ সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তাদের গ্রেপ্তার এবং নির্বাসনের মুখোমুখি হতে হয়।

২০১৯ সালে সৌদি আরব পর্যটন ভিসা চালু করার পর থেকে, অনিয়মিতভাবে হজপালনের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। কারণ এই ভিসার মাধ্যমে সহজেই সৌদি আরবে প্রবেশ করা যায়। অনিয়মিত উপায়ে হজ পালন করে হাজিরা হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close