আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ২৩ জুন, ২০২৪

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলায় আইসিজেতে কিউবা

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাজায় চালানো গণহত্যা ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলায় যোগ দিয়েছে ক্যারিবীয় দেশ কিউবা। এ নিয়ে তৃতীয় দেশ হিসেবে ওই মামলায় যোগ দিল কিউবা। খবর আল-জাজিরার।

কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে, হাভানা সরকার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যার বিষয়ে আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গণহত্যার বিরুদ্ধে মামলায় যুক্ত হয়ে কিউবা জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক সংস্থা আইসিজের কাছে ইসরায়েলের গণহত্যা কনভেনশনের লঙ্ঘনের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, কিউবা ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা বন্ধ করতে... যতটা সম্ভব অবদান রাখতে চায়।

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুনো রড্রিগেজ পারিলা এ নিয়ে এক্স পোস্টে বলেন, আমাদের অবশ্যই ফিলিস্তিনের জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যার অবসান ঘটাতে হবে।

কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েল সম্পূর্ণ দায়মুক্তির সঙ্গে মার্কিন সরকারের রক্ষাকবজে থেকে একটি দখলকারী শক্তি হিসেবে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে চলেছে।

কিউবার সরকার মনে করে, গণহত্যা, বর্ণবাদ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং জাতিগত শাস্তি আজকের বিশ্বে কোনো স্থান নেই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এগুলো সহ্য করতে পারে না, যা গাজায় করছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ন্যায়বিচার ও সম্মান অবশ্যই প্রাধান্য পাবে।

গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলায় এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগ দিয়েছে চিলি ও স্পেন। সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো কিউবা।

গাজায় গত আটমাসের বেশি সময় ধরে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে চালানো নির্বিচার হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৩৭ হাজার ৪৩১ জনের বেশি। আহত হয়েছেন আরও ৮৫ হাজার ৬৫৩ জন। হতাহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আর্মেনিয়ার স্বীকৃতি : রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে আর্মেনিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করে শুক্রবার (২১ জুন) ইয়েরেভান জানায়, আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করেই তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এদিকে এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলে নিযুক্ত আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তেল আবিব।

শুক্রবার সকালে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্মেনিয়া অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই পণবন্দীদের মুক্তিরও আহ্বান জানিয়েছে।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে আর্মেনিয়া অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আজারবাইজানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের এ ঘটনা ঘটছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

বেসামরিক জনগণের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ করে আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন, জাতির সমতা, সার্বভৌমত্ব ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করেই তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ওই ঘোষণায় আর্মেনিয়া নিজেদেরকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সত্যিকারে আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে বেসামরিকদের জিম্মি করার জন্য হামাসের নিন্দা করে জিম্মিদের মুক্ত করতে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close