প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ০১ জুলাই, ২০২২

ন্যাটোর সম্মেলনের পর আক্রমণ তীব্র রাশিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো কিইভের বিপর্যস্ত সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনায় সম্মত হওয়ার পর ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে রাশিয়া। স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর সম্মেলনে মস্কোকে পশ্চিমাদের নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে জোটটি।

ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা ফ্রন্টলাইনে থাকা পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিসিচ্যাংস্ক থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। লুহানস্কের পূর্ণাঙ্গ দখল নেওয়ার ক্ষেত্রে শেষ বাধা লিসিচ্যাংস্কেই এখন রুশ বাহিনীর মূল নজর; শহরটির প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দাকে এখন অবিরাম গোলাবর্ষণের মধ্যে টিকে থাকার লড়াই চালাতে হচ্ছে, বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

‘সারাক্ষণ যুদ্ধ চলছে। রুশরা সার্বক্ষণিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো বিরতি দিচ্ছে না,’ ইউক্রেনের টেলিভিশনকে বলেছেন আঞ্চলিক গভর্নর সেরহি হাইদাই।

পরে তিনি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে রুশ বাহিনী লিসিচ্যাংস্কের তেল শোধনাগারেও হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে স্বঘোষিত লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের দূত রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আইআইএকে বলেছেন, লিসিচ্যাংস্কের ওই তেল শোধনাগার এখন পুরোপুরি রাশিয়া ও তাদের সমর্থিত বাহিনীর হাতে চলে এসেছে। শহরটিতে ঢোকার সব পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ারও দাবি করেছেন তিনি। রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের ভাষায় ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ যে ক’টি লক্ষ্য ঠিক করেছিল, তার একটি হচ্ছে দনবাসের ওপর মস্কোপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। লুহানস্ক আর এর প্রতিবেশী দোনেৎস্ক মিলেই দনবাস।

ন্যাটো সম্মেলনের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ অঞ্চল ও খারকিভেও ক্ষেপণাস্ত্র, মর্টার ও কামানের গোলা ছুড়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।

বুধবার ন্যাটোর সম্মেলনজুড়েই ছিল ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ ও এর কারণে ভূরাজনৈতিক যে টালমাটাল পরিস্থিতি তা নিয়েই আলোচনা। এবারের সম্মেলনে পশ্চিমা এ সামরিক জোট সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে তাদের সদস্য হতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং পূর্ব ইউরোপে যুদ্ধের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা সেনা সংখ্যা ২০২৩ সাল থেকে ৭ গুণ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে।

এর পাল্টায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটটিতে যোগ দেওয়ার পর ন্যাটো যদি নর্ডিক দেশ দুটিতে কোনো স্থাপনা বা ঘাঁটি নির্মাণের চেষ্টা করে তাহলে রাশিয়াও তার মতো করে প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

ন্যাটোতো যোগ দেওয়ার কারণে হেলসিংকি ও স্টকহোমের সঙ্গে মস্কোর উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করে দেননি বলে জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থাগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্পেন থেকে শুরু করে ইউক্রেন সীমান্ত লাগোয়া রোমানিয়া ও পোল্যান্ডসহ ইউরোপজুড়ে আরো বেশি মার্কিন স্থল, সমুদ্র ও বিমান বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন।

তার ঘোষণার মধ্যে আছে পোল্যান্ডে একটি স্থায়ী সদর দপ্তর ও এক ব্যাটেলিয়ন সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতিও; এমনটা হলে এটিই হবে ন্যাটোর পূর্ব প্রান্তে প্রথম সার্বক্ষণিক মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঘটনা।

‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট পুতিনের যুদ্ধ ইউরোপের শান্তি বিনষ্ট করেছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি করেছে। ন্যাটো শক্তি ও একতা দিয়ে এর জবাব দিয়েছে,’ ২০২৩ সাল থেকে পূর্ব ইউরোপে যুদ্ধের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা সেনা সংখ্যা তিন লাখে উন্নীত করার আশ্বাস দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্তলতেনবার্গ।

রাশিয়ার প্রবল আক্রমণে বিপদের মুখে থাকা ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাজ্যও নতুন করে ১২০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ সহায়তার মধ্যে থাকছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা, ড্রোন ও নতুন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার যন্ত্রপাতি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close