প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৮ জানুয়ারি, ২০২২

চীনে রেকর্ড মাত্রায় কমেছে জন্মহার

চীনে রেকর্ড মাত্রায় কমেছে শিশু জন্মহার। গতকাল সোমবার জাতীয় পরিসংখ্যার ব্যুরোর ডেটায় দেখা যায়, ২০২১ সালে দেশটির মূল ভূখণ্ডে প্রতি হাজারে জন্মহার ছিল ৭ দশমিক ৫২। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

ওই ডেটা প্রকাশের পর দেশটির জন্মহারের নিম্নগামী প্রবণতার দিকটি নতুন করে সামনে ওঠে এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে এমন নিম্নগামী প্রবণতার ফলে ২০২১ সালে দম্পতিদের তিনটি পর্যন্ত সন্তান নেওয়ার অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ।

বহু দশক ধরে কঠোরভাবে ‘এক সন্তান নীতি’ অনুসরণের পর ২০১৬ সালে চীন তা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে জানায়, সব দম্পতি দুটি করে সন্তান নিতে পারবেন। কিন্তু এরপরও জন্মহার স্থায়ীভাবে বাড়েনি। বরং শহরগুলোতে সন্তান বড় করার ক্রমবর্ধমান খরচ বহু চীনা দম্পতির জন্য একটা বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করেছে।

এমন বাস্তবতায় ২০২১ সালে তিনটি পর্যন্ত সন্তান নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা আসে। পিনপয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ঝিওয়েই ঝাং। তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জটি সুপরিচিত। কিন্তু জনসংখ্যার বার্ধক্যের গতি স্পষ্টতই প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুততর।’ ২০২১ সালে রেকর্ড মাত্রায় জন্মহার কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, চীনে জন্মহার ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে কমছে। ২০২০ সালে যেখানে ১২ মিলিয়ন শিশুর জন্ম হয়েছে সেখানে ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০ দশমিক ৬২ মিলিয়ন।

২০১৬ সালে যখন চীন বিতর্কিত এক সন্তান নীতির অবসান ঘটিয়ে দম্পতিদের দুই সন্তান নেওয়ার অনুমতি দেয়, তখন নীতি পরিবর্তনের পর দুই বছর জনসংখ্যা বাড়লেও তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ইকোনমিস্ট ইন্টালিজেন্স ইউনিটের প্রধান অর্থনীতিবিদ মিজ ইউয়ে সু-এর মতে, ‘দুই সন্তান নীতির একটা ইতিবাচক প্রভাব জন্মহারের ওপর পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেটা ছিল স্বল্পমেয়াদি।’

জন্মসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে ১৯৭৯ সালে যে এক সন্তান নীতি চালু করা হয়েছিল, দীর্ঘদিন চালু থাকা সেই নীতির প্রভাব দেখা গেছে জনসংখ্যা কাঠামোয়। কঠোর সেই নীতি না মানলে জরিমানার বিধান ছিল, আইন অমান্যকারীদের শাস্তি হিসেবে চাকরিচ্যুত করা হতো এবং কখনো কখনো বাধ্যতামূলক গর্ভপাতও করা হতো। ওই আইনের ফলে নারী পুরুষের সংখ্যায় ভারসাম্যের বিশাল অভাব তৈরি হয়েছে। দেশটিতে এমনিতেই ঐতিহাসিকভাবে পুরুষদের প্রাধান্য নারীদের চেয়ে বেশি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close