প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৭ নভেম্বর, ২০২১

নারীর প্রতি সহিংসতার অবসান চেয়ে বিক্ষোভ

নারীর প্রতি সহিংসতার অবসান চেয়ে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন মেক্সিকো সিটি, মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, প্যারিস ও লন্ডনের রাস্তায় হাজারো মানুষ বিক্ষোভে শামিল হন। চিলি, ভেনিজুয়েলা, বলিভিয়া, উরুগুয়ে, কোস্টারিকা, পানামা, কলম্বিয়াতেও বিক্ষোভ হয়েছে।

মেক্সিকোতে প্রতিদিন প্রায় ১০ জন নারী হত্যার শিকার হন। দেশটিতে নারীর প্রতি সহিংসতার অবসান চেয়ে হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘তারা মারা যাননি, তাদের হত্যা করা হয়েছে’।

মেক্সিকো সিটিতে কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের আত্মরক্ষার সরঞ্জাম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্পেনে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াইকে জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে। গতকাল স্পেনের মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার রাস্তায় বেগুনি পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করে হাজারো মানুষ।

স্পেনের রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের মুখে ছিল বেগুনি রঙের মাস্ক। এ ছাড়া একই রঙের টুপি ও স্কার্ফে ঢাকা ছিল তাদের মাথা। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার এখন সমাধান চাই’।

স্পেনের বিভিন্ন ভবনও বেগুনি রঙে সাজানো হয়েছিল। এসব ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘আমাদের সবাই এখানে নেই, নিহত ব্যক্তিরা তো আর উপস্থিত হতে পারেননি।’ তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আর একটি মৃত্যুও চাই না’।

জাতিসংঘের আঞ্চলিক কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২০২০ সালে কমপক্ষে ৪ হাজার ৯১ জন নারী জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়ে মারা গেছেন।

জাতিসংঘের লৈঙ্গিক সমতাবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন শারীরিক কিংবা যৌন সহিংসতার শিকার হন।

ইস্তানবুলে নারীদের বিক্ষোভে টিয়ার গ্যাস : নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনে ইস্তানবুলে আয়োজিত মিছিলে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছে তুরস্কের পুলিশ। বৃহস্পতিবার ওই বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা তুরস্ককে ‘ইস্তানবুল কনভেনশনে’ ফের যুক্ত হওয়ার দাবি তোলে। ২০১১ সালে নারীদের সুরক্ষায় স্বাক্ষরিত হয় ইস্তানবুল কনভেনশন। এতে স্বাক্ষর করে ৪৫টি দেশ। প্রথম দেশ হিসেবে তুরস্ক এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও গত বছরের জুলাইতে প্রথম দেশ হিসেবেই তারা এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। ওই সময় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান দাবি করেন, সমকামিতাকে স্বাভাবিক করতে চাওয়া মানুষেরা এই উদ্যোগ ছিনিয়ে নিয়েছে।

গত বছরের মার্চে এরদোয়ান যখন প্রথম প্রত্যাহারের আগ্রহের কথা ঘোষণা করেন তখনো তুর্কি নারীরা বিক্ষোভ করেন। তুরস্কের একটি বেসরকারি সংস্থার হিসেব অনুযায়ী ২০২১ সালে এখন পর্যন্ত দেশটিতে পুরুষের হাতে হত্যার শিকার হয়েছে ২৮৫ নারী। বৃহস্পতিবার তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন গত বছরের চেয়ে এই সংখ্যা অনেক বেশি। তবে সরকার এর পরিমাণ নামিয়ে আনতে কাজ করছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close