দ. কোরিয়ায় ভূমিধসে মৃত ৩০, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ১২ জন। দেশটিতে গত সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে এ বছর। গতকাল রোববার উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার বাসিন্দাকে। দেশটির ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানায়, বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোরীয় উপদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায়। এদিন সেখান থেকে ৬ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরাতে গণমাধ্যটি জানায়, নতুন করে ভূমিধসে আহত হয়েছে আরো আটজন। এ ছাড়া, নৌকা ডুবে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরো তিনজন। গতকাল সিউল থেকে ৮৫ কিলোমিটার পূর্বের ইউয়িয়াম বাঁধের কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। একে নৌ-দুর্ঘটনা বলেছে কর্তৃপক্ষ। ইয়োন হাপ জানিয়েছেন, ১১টি প্রদেশের ৫ হাজার ৯০০ বাসিন্দা বন্যার কারণে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন ৪ হাজার ৬০০ জন। দুর্যোগের পূর্বাভাসের কারণে তাদের নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে অথবা নষ্ট হয়ে গেছে। ৯ হাজার ৫ ঘরবাড়ি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে গত শনিবার উপদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের সিমিজান নদীর ১০০ মিটার ভেঙে গেছে। প্লাবিত হয়েছে আশপাশের এলাকা। নদী থেকে ৫০০ জনসহ ওই এলাকা থেকে ১ হাজার ৯০০ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। অবকাশকালীন উপদ্বীপ জেজু ছাড়া প্রত্যেক অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রানওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় গুয়াংজু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ১২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সিউলের বাসিন্দাদের বেইজমেন্টে না থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় টানা ৪৯ দিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বর্ষা মৌসুম স্থায়ী হয়েছিল। এ বছরের বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে ৪৬ দিন হয়ে গেছে। এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

 

"