মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

  ১১ জুলাই, ২০২৪

মিরসরাই ট্র্যাজেডি আজ

ছেলের ছবি নিয়ে এখনো আহাজারি করেন মা-বাবা

শোকাবহ মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৩ বছর আজ। সন্তানদের জন্মদিন অনেকে হয়তো ব্যস্ততার কারণে ভুলে যান। কিন্তু মৃত্যুদিন মা-বাবা ভোলেন না। চোখের সামনে ভেসে উঠে কারো ভাই, কারো সন্তান, কারো বন্ধু-স্বজন কিংবা প্রিয় ছাত্রদের অকালে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার দৃশ্যপট। স্বজনের বুকফাটা আহাজারিতে এখনো ভারী হয় আবুতোরাবের বাতাস। এখনো গভীর রাতে আসে কান্নার রোল। স্মৃতি বলতে শুধুই ছবির ফ্রেম। নারীছেঁড়া ধন ছেলেকে হারিয়ে মা-বাবা সেই ছবি বুকে আঁকড়ে ধরে আহাজারি করেন। আবার কখনো হয়ে যান নির্বাক।

জানা যায়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা সদরের স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে বড়তাকিয়া আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় চালকের অসতর্কতায় প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি মিনি ট্রাক উল্টে পার্শ্ববর্তী ডোবায় পড়ে যায়। যেখানে ৪২ জন শিক্ষার্থীসহ ৪৫টি তাজা প্রাণ ঝরে যায়। লাশের মিছিলে ভারী হয়ে উঠে গ্রামের পর গ্রাম। শোকের জনপদে পরিণত হয় মায়ানী, আবুতোরাব, মঘাদিয়াসহ পাশর্^বর্তী সাতটি গ্রাম।

আজও সেই ডোবার পাশে এলেই গা শিউরে উঠে স্বজন-সহপাঠী কিংবা পথচারীদের।

তবে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী নিহত হওয়া আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের মূল ফটকে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ আর দুর্ঘটনাস্থলে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’।

আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার বলেন, নিহতদের স্মরণে স্কুল প্রাঙ্গণে ছোট পরিসরে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নিহত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আবুতোরাব স্কুল প্রাঙ্গণে ‘আবেগ’ ও দুর্ঘটনাস্থল ‘অন্তিমে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এছাড়া নিহত স্কুল শিক্ষার্থীদের স্মরণে স্থানীয় মসজিদ, মন্দির, গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মিরসরাই ট্রাজেডিতে

উপজেলার আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের ৩৪ জন, আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারজন, আবুতোরাব ফাজিল মাদরাসার দুজন, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের দুজন শিক্ষার্থী সেদিন নিহত হন। এছাড়া এক অভিভাবক দুজন ফুটবলপ্রেমী কিশোরসহ ৪৫ জনের মৃত্যু হয়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close