নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৯ জুলাই, ২০২৪

মন্ত্রী চলে যেতেই মিটফোর্ডে আগের চিত্র

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন মিটফোর্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তার আসার খবরে আগে থেকেই সব পরিপাটি হয়ে যায় এ সরকারি হাসপাতালে। নির্দিষ্ট সময়েই উপস্থিত হন ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। কিন্তু মন্ত্রী চলে যাওয়ার পরই সেই পুরোনো চিত্র। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে বাগবিতন্ডায় জড়ান রোগীরা।

গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। পরিদর্শন শেষে এক সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের কোনো অসংগতি তার চোখে পড়েনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের খবরে হাসপাতালে নামে সুনসান নীরবতা। যার যার ডিউটিতে ডাক্তার, নার্স, কমকর্তা ও কর্মচারীরা যারপর নেই সক্রিয় হয়ে পড়েন। যে কারণে হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে কোনো গরমিল পাননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কিন্তু মন্ত্রী চলে যেতেই আবার ফেরে আগের চিত্র। নানা অভিযোগ করেন রোগীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তারা। রোগীদের অভিযোগ, যারা টাকা দিচ্ছে তাদের পেছন থেকে সিরিয়াল ব্রেক করে ডাক্তারের চেম্বারে ঢোকানো হয়। অথচ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও সিরিয়াল পাওয়া যায় না।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালের ল্যাব, আইসিইউ, বার্ন ইউনিট, এমআরআইসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘ডাক্তাররা উপযুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারছে কি না সেটা দেখা। রোগী এবং ডাক্তার উভয়কেই সুরক্ষা দেওয়া আমার দায়িত্ব।’ এ সময় তিনি সলিমুল্লাহ মেডিকেলের অবকাঠামো এবং এমবিবিএস প্রথম ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা এই দেশের ভবিষ্যৎ। আমি আশা করব তোমরা ভালোমতো পড়াশোনা করে দেশের উপকার করবে। আমি বলব, তোমরা অনেক ভাগ্যবান। চিকিৎসকদের অ্যাপ্রোন পড়ার যে সৌভাগ্য সেটা সবার হয় না। অ্যাপ্রোনের মর্যাদাটা তোমাদের ধরে রাখতে হবে। তোমাদের যথাযথভাবে পড়াশোনা করে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। পিতামাতাকে সম্মান করতে হবে। পিতামাতাকে সম্মান করলে জীবনে সাফল্য অর্জন করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তোমাদের থাকার এবং সুযোগ-সুবিধা নানা অপ্রতুলতা রয়েছে। আমি রাতারাতি হয়তো পারব না। কিন্তু আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব তোমাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে। তোমাদের ভালোভাবে রাখতে।’

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. মাজহারুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানসহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close