প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৫ জুন, ২০২৪

বন্যার পানি নামছে

এবার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

সুনামগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকাগুলো থেকে পানি নামছে। গতকাল আরো নতুন নতুন এলাকা পানির নিচ থেকে জেগে উঠেছে বলে জানা গেছে। এতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি জানা যাচ্ছে। এই দুই জেলা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বন্যায় ফসল ও মানুষের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার হিসাব করা হচ্ছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সুনামগঞ্জ : ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট থেকে ধীরে ধীরে বানের পানি সরে যাচ্ছে। এতে ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। তবে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কালিপুর, সুলতানপুর, হাসনবাহার অন্তত আটটি আবাসিক এলাকার মানুষ এখনো পানিবন্দি হয়ে আছে। বসতভিটায় পানি থাকায় পানিতে নিমজ্জিত থাকায় কাঁচা ঘরবাড়িগুলো নষ্ট হচ্ছে। বন্যার পানি সরে যাওয়ায় বন্যার্ত মানুষের মাঝে স্বস্তি দেখা দিলেও তারা এখনো দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বন্যার পানি নেমে গেলেও বানভাসী নিম্নআয়ের মানুষের অনেকেই ফিরতে পারছেন না ঘরে। ঘর থেকে পানি সরলেও কাদা-দুর্গন্ধসহ বন্যার ক্ষত দূর করার লড়াই করছেন তারা। নিম্নআয়ের মানুষ যারা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছিলেন, তাদের বেশির ভাগই এই কষ্টে পড়েছেন।

এ ছাড়া জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ ও ছাতক উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৩ লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি। ঢলের পানিতে সড়ক ও বসতভিটার পাশাপাশি বেশি ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খামারের। জেলার ৮ হাজার ২১টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। যা টাকার পরিমাণে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।

এখনো বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি না নামায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে পারেনি প্রশাসন। চলতি বন্যার পানি নামছে ধীরগতিতে ফলে বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাতেন বলেন, আমার বাড়িসহ গ্রামের সবার বাড়িতেই পানি উঠেছিল। এখন পানি নামলেও ঘরে যাওয়ায় সম্ভব হচ্ছে না। ঘর ভেঙে গেছে। তাই এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। একই উপজেলার ওয়েজখালি গ্রামের সফর আলী বলেন, ‘ঘর থাইকা পানি নামলেও রাস্তাত পানি। কাজে কামে যাইতে পারতাছি না। খুব কষ্টে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে দিনযাপন করতাছি। এই মুহূর্তে যাদের কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে তারা সরকারের সহায়তা চাচ্ছেন। সরকারের সহায়তা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যাবে বলে জানালেন ক্ষতিগ্রস্তরা। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন, আমরা পুরো জেলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছি। আমরা মন্ত্রণালয়ে ক্ষয়ক্ষতি তালিকা প্রেরণ করব। তারপর ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহায়তা করা হবে।

সিরাজগঞ্জ : যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে কমতে শুরু করেছে। গতকাল সোমবার সকালে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৭৮ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে কাজিপুর মেঘাই পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.৪৪ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৩ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ১৩৬ সিন্টিমিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা পানি আরো কমবে। জেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এলাকাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চাওয়া হয়েছে।

কমলগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত ৮০০ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮০০ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধান অতিথি হিসেবে চাল বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আবদুস শহীদ।

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. ইমতিয়াজ আহমেদ (বুলবুল), উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীন, উম্মে ফারজানা ডায়না, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছলম ইকবাল মিলন, সাবেক সভাপতি এম মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুল আলম ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close