নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৫ জুন, ২০২৪

উদ্যোক্তা

নারীদের স্বাবলম্বী করেন রোজী

তাহমিনা আহমেদ রোজী। একটি বিশেষ কারণে তিনি অন্য দশজন উদ্যোক্তা থেকে ব্যতিক্রম। সে বিশেষ কারণটি হলো তিনি কাজ করেন এমন নারীদের নিয়ে, যারা ঘরের বাইরে খুব বেশি একটা বের হওয়ার সুযোগ ও সময় পান না। খোলাসা করে বলা দরকার ঢাকায় এমন অনেক নারী আছেন, যারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও তাদের অন্য প্রতিভা আছে। তবে সংসারের প্রয়োজনে ঘরের কাজে মগ্ন থাকার কারণে সে শিক্ষা ও প্রতিভা ব্যবহারের সময় ও সুযোগ বের করতে পারেন না। দীর্ঘদিন ঘর সংসারে চাপে জং ধরে যাচ্ছিল প্রতিভায়। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল সমাজ থেকে। তিনি তাদের সে বিলুপ্ত প্রায় প্রতিভাকে আলোয় আনার জন্য গড়ে তুলেছেন রোজ কিচেন। এখানে শুধু তারাই প্রশিক্ষণ নেন, যারা অন্যদের মতো দশটা-পাঁচটা অফিস না করে এবং বাসাবাড়ির বাইরে না গিয়ে ঘরে বসে যারা অর্থ উপার্জন করতে চান। অর্থাৎ নিজের অবসর সময়কে বিনিয়োগ করে কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়? সে বিষয়ে কাজ করেন তিনি। এর মাধ্যমে নারীদের খোশ গল্প বা বিশ্রামের সময়কে কর্মঘণ্টায় রূপান্তর করছেন রোজ কিচেনের মাধ্যমে।

নগরে এমন নতুন উদ্যোগ প্রসঙ্গে তাহমিনা আহমেদ রোজী বলেন, শহরে এই সময়ে অনেক নারী আছেন, যারা স্থায়ী চাকরি করতে পছন্দ করেন না অথবা চাকরি করতে পারেন না নিজের সন্তানের লালন-পালন এবং ঘর সংসারের কাজের জন্য। অনেক মেয়ে পড়াশোনার কারণেও চাকরি করতে পারেন না। অথচ তাদের জীবনের প্রাত্যহিক খরচ ও সংসারের সচ্ছলতার জন্য অর্থ উপার্জন করা দরকার। কর্মহীন এমন নারীদের কর্মসংস্থানের আওতায় আনার পরিকল্পনা থেকেই রোজ কিচেনের যাত্রা শুরু। গত ৬ বছর ধরে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কাজ করছে রোজ কিচেন।

তাহমিনা আহমেদ রোজী জানান, তার প্রতিষ্ঠিত ‘রোজ কিচেন’ থেকে প্রথমে নারীদের খাবার তৈরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। খাবারের গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর প্রশিক্ষিত মেয়েদের তৈরি করা খাবার ভোক্তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করা হয়। খাবারের অর্ডার সংগ্রহ করার কাজটি করে রোজ কিচেন। খাবার তৈরি করে রোজ কিচেনের প্রশিক্ষিত মেয়েরা। পরে ডেলিভারিম্যানের মাধ্যমে এসব খাবার পৌঁছে দেওয়া হয় গ্রাহকদের কাছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন। বিয়ে, জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে অনেকে বিভিন্ন পদের খাবার অর্ডার করেন। মেয়েদের মধ্যে যিনি যে খাবারটি ভালো তৈরি করতে পারেন তিনি সেই খাবার তৈরি করেন। খাবারের উপকরণ কিনে দেওয়া হয় রোজ কিচেনের পক্ষ থেকে। খাবার বিক্রি করে যে লাভ পাওয়া যায়, তা মেয়েদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়। অনেক সময় শহরের বিভিন্ন মেলায় অংশ নেয় রোজ কিচেন। সেখানে মেয়েরা তাদের তৈরি করা খাবার স্টলে প্রদর্শন করেন। মেলায় বিক্রি হয় ভালো। অনেক সময় অর্ডারও আসে মেলা থেকে। শীত উপলক্ষে বিভিন্ন পিঠা এবং গায়ে হলুদ ও বিয়ের ডালা সাজানোর অর্ডার বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় সম্পূর্ণা বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। এ সংগঠনের উদ্যোগে নারীদের পণ্য উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ধানমন্ডির রাপা প্লাজায় সম্পূর্ণা বাংলাদেশের একটি বিক্রয় কেন্দ্র আছে। যেখানে নারীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারেন। ভবিষ্যতে ঢাকা থেকে সারা দেশে সম্পূর্ণা বাংলাদেশের কার্যক্রম পরিচালনার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close