হামিদ রনি

  ২২ জুন, ২০২৪

সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ

এক লাখ করে টাকা পেলেন দুই বিধবা

বিভিন্ন সহযোগিতার পাশাপাশি এলাকায় ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণের সময় প্যাকেটে একটি করে টোকেন দেওয়া হয়। সেই টোকেনের একটি অংশ থাকে বিতরণকারীদের কাছে। সেসব অংশ নিয়ে ঈদের পরদিন ফাউন্ডেশনের সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্যদের নিয়ে লটারি হয়। লটারিতে দুজনকে সিলেক্ট করে তাদের ১ লাখ টাকা করে ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

এ কর্মসূচির আওতায় এবার সেনবাগ উপজেলার অর্জুনতলা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের বিধবা মনি বেগমকে চতুর্থ লাখপতি ও পঞ্চম লাখপতি হিসেবে ছিলোনিয়া গ্রামের বিধবা তাসলিমা বেগমকে লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। এই টাকা দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে এ দুই পরিবারকে। আর তা তদারকির দায়িত্বে থাকবেন সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার পর ভাগ্যবান সেই ব্যক্তিদের বাড়ি থেকে সৈয়দ হারুনের নিজস্ব গাড়িতে করে সৈয়দ মঞ্জিলে নিয়ে আসা হয় এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করা হয় তাদের।

এভাবেই বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজের মাধ্যমে সমাজের হতদরিদ্র অসহায় মানুষদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে চেষ্টা করে যাচ্ছে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন। ব্যতিক্রমী এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এরই মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার ৫ নম্বর অর্জুনতলা ইউনিয়নের সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন। ঈদের পরদিন এমন কার্যক্রম পরিচালনা করে সংগঠনটি। সংগঠনের আহ্বায়ক মো. ইসহাকের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সদস্য সচিব রমজান আলী মাসুমের সঞ্চালনা এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লায়ন সৈয়দ হারুন, ৫ নম্বর অর্জুনতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রিপন, ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার, টপ স্টার গ্রুপ পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন মিন্টু, সৈয়দ হারুনের জামাতা ব্যাংকার স্মৃতি স্মরণ্য, সমাজসেবক আবু ইউছুপ মজুমদার ও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লায়ন সৈয়দ হারুন স্বপ্ন দেখতেন- নিজের সফলতার পাশাপাশি এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করা। সে লক্ষ্যে তিনি সমাজের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য গড়ে তুলেছেন বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম, বিভিন্ন বিশেষ দিন ও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে করে যাচ্ছেন নানা ধরনের সহযোগিতা। তারই অংশ হিসেবে তিনি গত কয়েক বছর আগে শুরু করেন লাখপতি প্রজেক্ট। এর মাধ্যমে তিনি প্রতি ঈদে একজন ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা দিয়ে তাকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে আরো একজন করে বাড়িয়ে তা দুজনে নিয়ে আসা হয়। এর আগে সেনবাগ উপজেলার অর্জুনতলা ইউনিয়নের প্রথম লাখপতি নির্বাচিত হন হতদরিদ্র রকি উল্লাহ, দ্বিতীয় লাখপতি আবদুল হক স্বপন এবং তৃতীয় লাখপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন জোছনা বেগম। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন মানুষ হঠাৎ লাখ টাকা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। যা তারা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি। এ সময় তারা সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের এমন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আর তার এসব কাজে নিজের পাশাপাশি সন্তানদেরও সম্পৃক্ত করছেন ক্রমান্বয়ে। এভাবেই তার ব্যবসা ও সম্পদের একটি অংশ ব্যয় করেন অসহায় হতদরিদ্র মানুষদের স্বাবলম্বী করে তুলতে।

ব্যতিক্রমী এমন আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন মো. সৈয়দ হারুন বলেন, আল্লাহ আমাকে সফলতা দান করেছেন এবং যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ দিয়েছেন। আমি সব সময় চেষ্টা করতাম- অসহায় মানুষের পাশে থাকতে। গতানুগতিক কাজের চেয়ে ব্যতিক্রম কাজ করতে বেশি পছন্দ করতাম। সেই লক্ষ্যে একটি ফাউন্ডেশন করে তার মাধ্যমে এই কার্যক্রমগুলো করে যাচ্ছি। এভাবেই এক দিন সমাজ বদলে যাবে বলে বিশ্বাস করেন সৈয়দ হারুন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close