কক্সবাজার প্রতিনিধি

  ২২ জুন, ২০২৪

ঝুঁকিপূর্ণদের সরাতে কক্সবাজারে প্রচারণা

ফের পাহাড় ধসের শঙ্কা

ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এতে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে পুনরায় পাহাড় ধসের আশঙ্কায় কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে মাইকিংসহ নানাবিধ প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান জানিয়েছেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ সংশ্লিষ্ট এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো।

গত বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৬৩ মি.মি.। কখনো ভারী, কখনো মাঝারি বর্ষণে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাঁচটি স্থানে পাহাড় ধস হয়। এতে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা ও অপর আটজন রোহিঙ্গা। গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উখিয়ার ১, ৮, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ পাহাড় ধস ঘটে। এর মধ্যে ১-ওয়েস্ট নম্বর ক্যাম্পে ১ জন, ৮ নম্বর ক্যাম্পে ১ জন, ৯ নম্বর ক্যাম্পে ৩ জন, ১০ নম্বর ক্যাম্পে ৪ জন ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা দানকারী জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর দেওয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজারের ৩৩টি শিবিরে প্রায় ৭ হাজার ৭৯৪ জন শরণার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার মধ্যে আনুমানিক ১ হাজার ১৯১টি আশ্রয়ণ ক্ষতিগ্রস্ত বা বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান পানি ও ভূমিধসে শিক্ষাকেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, মসজিদ, ল্যাট্রিন, পানির উৎস এবং গোসলখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোহিঙ্গারা বলেছেন, এক দিনের ভারী বৃষ্টিতে এত বেশি প্রাণহানি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগে ঘটেনি। ক্যাম্পগুলোয় এখনো অসংখ্য রোহিঙ্গা পরিবার পাহাড় ও ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। তারা নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রয়েছে। এরই মধ্যে ক্যাম্পে ঝুঁকিপূর্ণ ৫০০ পরিবার ও বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরো যারা ঝুঁকিপূর্ণ আছে তাদেরও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close