রংপুর ব্যুরো

  ২২ জুন, ২০২৪

চীন-ভারত সফর

তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম করার দাবি

চীন ও ভারত সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ সুগম করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দাবি জানিয়েছেন ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’-এর নেতারা। সেখানেও যদি সমস্যা থাকে, তাহলে নিজস্ব অর্থায়নেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরের ২ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা বাঁচানোর দাবি তাদের। দাবি আদায়ে আগামী ৬ জুলাই তিস্তা কাউনিয়া পয়েন্টে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টায় রংপুর সিটি করপোরেশনের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী, সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমানসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, আমরা আশা করি ইনশাআল্লাহ প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত এবং চীন যাচ্ছেন, আমাদের রংপুরের এই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে অবশ্যই তিনি তার ভূমিকা রাখবেন।

মেয়র বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাব। রংপুরের ২ কোটি মানুষের প্রাণের যে দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। সেটা কে করবে, তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। চীন নাকি ভারত সহযোগিতা করবে, কি করবে না, এটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এটা মাত্র ১০-১২ হাজার কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট। এটা বড় প্রজেক্ট না। আপনারা যমুনা সেতুর ওপরে দ্বিতীয় রেলসেতু করছেন, সেটাও ২৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে। আর এটা আর কত টাকার প্রজেক্ট? কেন এটা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সেটা আমাদের বোধগম্য নয়।

মোস্তফা বলেন, চীন যদি ফান্ডিং করে ভালো, যদি ভারত ফান্ডিং করে তাও ভালো। তা না হলে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে আমাদের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন চাই। এটাই আমাদের মূল দাবি। এরপর ধারাবাহিকভাবে এই আন্দোলন চলমান থাকবে, যতদিন পর্যন্ত এটা বাস্তবায়ন না হয়। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের মধ্য দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব জট খুলবে। তবে ধরে নিতে হবে, শত প্রতিকূলতার পাহাড় ডিঙিয়েই সৃষ্ট হবে উত্তর জনপদের মানুষের স্বপ্নযাত্রা। শত বছরের উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার একটি জনপদকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি।

হক্কানী আরো বলেন, আমরা আর আশাহত হতে চাই না। আমরা আশা করেছিলাম চলতি বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বরাদ্দ থাকবে। কিন্তু করা হয়নি। এতে আমরা হতাশ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া ভাষণে আমরা উজ্জীবিত।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি তার ভারত ও চীন সফরের মধ্য দিয়েই এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব জট খুলবে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে। যদি এটা না হয় তাহলে ধারাবাহিক আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।

শাফিয়ার রহমান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় মাত্র ১০-১২ হাজার কোটি টাকা লাগবে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে লাখ লাখ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প হচ্ছে। কিন্তু উত্তরাঞ্চলে নেই। চীন-ভারত সহযোগিতা না করলেও নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব। সেটাও না হলে উত্তরের লাইফ লাইন তিস্তা অববাহিকার ২ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত-চীন সফরেই আমরা এর সুরাহা চাই। নইলে নিজস্ব অর্থায়নে করতে হবে। তা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন তিস্তা পাড়ের মানুষ।

পরে বর্ধিত সভায় সর্বসম্মতিতে আগামী ৬ জুলাই তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাফিয়ার রহমান।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close