কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

  ২০ জুন, ২০২৪

মৌলভীবাজার পর্যটকশূন্য

প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে সাধারণত পর্যটন স্পটগুলোয় উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এর ব্যত্যয় ঘটে না চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের দর্শনীয় পর্যটনস্থানগুলো। কিন্তু এবার ঈদের দিন থেকে টানা তিন দিন বৃষ্টির কারণে সেখানকার চা বাগানসহ দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকশূন্য থাকে। প্রায় ফাঁকা হয়ে রয়েছে এসব দর্শনীয় স্থান। এমনিতেই পর্যটক কম, তার ওপরে সারা দিন বৃষ্টি। পর্যটকরা হোটেল রিসোর্ট থেকে বের হতে পারেননি।

সোমবার (ঈদের দিন) সকাল থেকে বুধবার বিকেল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়েছে চায়ের রাজ্যে। এদিকে সিলেটের বন্যার প্রভাব পড়েছে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে। আগাম বুকিং দেওয়া অনেকেই সিলেটের বন্যার সঙ্গে শ্রীমঙ্গলকে মিলিয়ে আগাম বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন। তবে শ্রীমঙ্গলের কোথাও বন্যা নেই বলে জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। তবে কমলগঞ্জে বন্যা দেখা দিলেও হোটেল রিসোর্টে কোনো প্রভাব ফেলেনি বন্যার পানি।

চারদিকে সবুজের সমারোহে সজ্জিত সারি সারি চা বাগানের নয়নাভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের। চা বাগান ছাড়াও বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), টি মিউজিয়াম, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হাইল হাওর, মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল, নীলকণ্ঠ সাত রঙের চা কেবিন, বধ্যভূমি-৭১, চা কন্যা ভাস্কর্যসহ নানা স্থান ঘুরে দেখেন দেশি-বিদেশি পর্যটক। শহর থেকে একটু দূরে লাল পাহাড়, শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী পল্লী, সুদৃশ্য জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ ও হরিণছড়া গলফ মাঠ ঘুরে আনন্দ উপভোগ করেন তারা।

এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, পদ্মা লেক, পাত্রখলা লেক, ক্যামেলীয়া লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, মনিপুরী পল্লী, খাসিয়া পল্লী পর্যটকদের আকর্ষণ করে। প্রকৃতির টানে তাই পর্যটকরা ছুটে আসেন চায়ের রাজ্যে। তবে এবার কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে এলেও এসব পর্যটন স্থানে বেশির ভাগ যেতে পারেননি পর্যটকরা।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে এসেছেন আকাশ জামান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই বৃষ্টি, থামার নাম নেই। রিসোর্ট থেকেও বের হতে পারলাম না। রিসোর্টেই কাটতে হচ্ছে। বৃষ্টি উপভোগ করলেও ভালো করে ঘুরতে পারিনি। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবার নিয়ে চলে যাব। আবার ছুটি পেলে ঘুড়তে আসব।

সারমিন আনাম তান্নী নামের এক পর্যটক বলেন, সাতক্ষীরা থেকে কমলগঞ্জে বুধবার সকালে এসেছি। নিজস্ব গাড়ি থাকায় বেড়িয়েছিলাম ঘুরতে। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে গাড়ি থেকে নামতে পারিনি। গাড়ি থেকে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখলাম। প্রায় দুই ঘণ্টার মতো ঘুরে আবার রিসোর্টে যাচ্ছি। এমন বৃষ্টি জানলে আসতাম না। হোটেল দুদিন বুকিং দিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে চলে যাব।

কমলগঞ্জ অরণ্য নিবাস রিসোর্টের পরিচালক এহসান কবির সবুজ জানান, ঈদুল আজহায় সাধারণত পর্যটক কম থাকে। বেশির ভাগ রিসোর্টে প্রায় ৫০ শতাংশের কম রুম বুকিং হয়েছে। তার ওপরে ঈদের দিন থেকে বৃষ্টি হওয়া পর্যটকরা রিসোর্ট থেকে বের হচ্ছেন না। পর্যটকরা রিসোর্টেই সময় কাটাচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গল শহরের গ্রীনলিফ গেস্ট হাউজের মালিক এসকে দাশ সুমন বলেন, দিন দিন পর্যটকরা দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ট্যুর কোম্পানিগুলো ঈদ কিংবা অন্যান্য ছুটির সময় ভারত, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে যাওয়ার অফার দেন। এখন বেশির ভাগ পর্যটকই বিদেশমুখী। এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে হোটেল রিসোর্ট মালিকরা খুব কম আগাম বুকিং পাচ্ছেন। মূলত যারা শ্রীমঙ্গলে রাত্রী যাপন করেন ৮০ ভাগই আগাম বুকিং দিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, সিলেটে বৃষ্টির কারণে বন্যা হচ্ছে। অনেক পর্যটক ধারণা করছেন শ্রীমঙ্গলেও বন্যা। কিন্তু শ্রীমঙ্গলে কখনই বন্যা হয় না। অনেকে সিলেটের সঙ্গে সেটা গুলিয়ে ফেলছেন। এখন শ্রীমঙ্গলে প্রকৃতি অপরূপ সাজে সজ্জিত। সবুজে ভরে আছে সবকিছু।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, সাধারণত ঈদের আগের দিন থেকে সপ্তাহব্যাপী পর্যটক শ্রীমঙ্গলসহ পুরো জেলায় ঘুরে বেড়ান। তাদের জন্য প্রতিটি হোটেল-রিসোর্টকে নতুন সাজে সজ্জিত করে রাখা হয়। পর্যটকদের জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হয়। বেশির ভাগ হোটেল-রিসোর্ট হাউসফুল থাকে। কিন্তু এ বছর ঈদের আগের দিন থেকে আজ অব্দি খুবই কম বুকিং হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পর্যটকরা এখানে এসেও ঘুরতে পারছেন না। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

মৌলভীবাজার সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) আনিসুর রহমান বলেন, পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি পর্যটন স্পর্টগুলোয় আমাদের পুলিশ ছিল। পর্যটকরা যেন ঈদের ছুটি কাটিয়ে নির্ভিগ্নে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close