প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২০ জুন, ২০২৪

আসামে ভয়াবহ বন্যায় ৩০ মৃত্যু

১.৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

খারাপ আকার ধারণ করেছে আসামের বন্যা পরিস্থিতি। লাগাতার বৃষ্টির জেরে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে এবং ১৫টি জেলা জুড়ে ১ দশমিক ৬১ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

করিমগঞ্জ জেলার বদরপুর এলাকায় ভূমিধসের জেরে পাঁচজন মানুষ মারা গিয়েছে বলে খবরে জানা গেছে। এদের মধ্যে একজন নারী, তার তিন মেয়ে এবং তিন বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে। মর্মান্তিক এই বন্যায় আসামজুড়ে শোনা যাচ্ছে শুধুই হাহাকার এবং স্বজন হারানোর কান্না। মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রেমাল রাজ্যে আঘাত হানার পর থেকে ভূমিধসের জেরে আসামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ পৌঁছেছে। আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ) অনুসারে, করিমগঞ্জ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা, যেখানে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৩৩ জন মানুষ বন্যাকবলিত। ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর পানি এরই মধ্যে ফুলে উঠেছে। টানা বৃষ্টির জেরে পানির স্তর আরো বাড়ছে। ব্রহ্মপুত্রের শাখানদীগুলোও বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে।

কামপুরের কপিলি নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা গেছে, যা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। আইএমডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ২০ জুন পর্যন্ত আসাম এবং মেঘালয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। আসামের রাজধানী গুয়াহাটিও পানির তলায় চলে গিয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, এই বন্যায় ১ হাজার ৩৭৮ হেক্টর ফসলের জমি নষ্ট হয়েছে। ৫৪,৮৭৭টি গবাদিপশুর জীবনও সংশয়ের মুখে পড়েছে। পানিতে নিমজ্জিত ৪৭০টি গ্রাম। বন্যার তোড়ে ভেসে গিয়েছে বাঁধ, রাস্তা, সেতু। বেশির ভাগ জায়গায় বন্ধ হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ৫১১৪ জন মানুষ ৪৩টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। তবে উদ্বেগ কাটছে না কোনোভাবেই। বন্যাকবলিত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বনাথ, লখিমপুর, হোজাই, বোঙ্গাইগাঁও, নলবাড়ী, তামুলপুর, উদালগুড়ি, দররাং, ধেমাজি, হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ, গোয়ালপাড়া, নগাঁও, চিরাং এবং কোকরাঝাড়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close