প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২০ জুন, ২০২৪

বাড়ছে নদ-নদীর পানি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার, ফুলকুমার ও কালজানি নদের পানি, নেত্রকোনায় উব্ধাখালী, কংশ ও ধনু নদীর পানি এবং নীলফামারী ও রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে, এসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। অববাহিকার চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বেশকিছু অঞ্চলের আমনের বীজতলা ও সবজির খেত তলিয়ে গেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদনদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে কতিপয় পয়েন্টে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। সুরমা ব্যতীত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রধানতম নদী দুধকুমার ছাড়াও ফুলকুমার ও কালজানি নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। নদী অববাহিকার চর, ডুবোচর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে এসব চরের শাকসবজি ও পাটের আবাদ। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ সেন্টিনিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। দুধকুমার পাড়ের বাসিন্দা ফরিদুল, আমজাদ ও মোজাম্মেল হক দুয়েক দিনের মধ্যে চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন বলে জানান তারা। কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার সব নদনদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম ফেরদৌস জানান, জেলা প্রশাসন থেকে বন্যার জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।

কাউনিয়া (রংপুর) : রংপুরের কাউনিয়ায় রেলসেতু পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এর সঙ্গে শুরু হয়েছে তিস্তার ভাঙন। এজন্য ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ। গদাই গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, পানি বৃদ্ধি পেয়ে গদাই, ঢুষমারা, তালুক শাহবাজ, পূর্ব নিজপাড়ার অংশ, গোপীডাঙ্গা, আরাজি হরিশ্বর, চর প্রাণনাথ, শনশনিয়া, চর হয়বতখাঁ, চর গনাই, আজমখাঁর চর গ্রামের নিম্ন এলাকায় পানি উঠতে শুরু করেছে। আমন ধানের বীজতলা, উঠতি বাদাম খেত পানিতে ডুবে গেছে। অর্ধশতাধিক পুকুর ও মৎস্য খামারের পানি ঢুকছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ডালিয়া ব্যারাজের সবক’টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিস্তার পানি বাড়ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। তবে বাড়িঘর ডুবে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি। বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিদুল হক বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সার্বক্ষণিক নদীপাড়ের পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখতে বলা হয়েছে।

নীলফামারী : জেলায় বাড়ছে তিস্তার পানি। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বুধবার ভোর ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৯টায় কিছুটা কমে ২৩ সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টায় ২৭ সেন্টিমিটার নিচে নামলেও সন্ধ্যা নাগাদ পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা ছিল। নদীর ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২.১৫ মিটার। ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান জানান, কয়েকদিন ধরে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে তিস্তা নদীর পানি। তবে তিস্তাপাড়ের কোনো বাড়িঘরে এখনো পানি ওঠেনি। ওই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাড়িঘরে এখনো পানি ওঠেনি। তবে যেকোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের শঙ্কায় রয়েছেন এলাকার মানুষ।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় ২৪ ঘণ্টায় উব্ধাখালী, কংশ ও ধনু নদীর পানি বেড়েছে। তবে সোমেশ্বরীর পানি কিছুটা কমেছে। এর মধ্যে উব্ধাখালী নদীর পানি বেড়ে কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বুধবার সকাল ৯টায় উব্ধাখালী নদীর পানি বাড়ার কথা জানিয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারওয়ার জাহান বলেন, কংশ নদের পানিও জারিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি মাত্র ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। এছাড়া জেলার হাওরাঞ্চলের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধনু নদের পানি খালিয়াজুরী পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর সোমেশ্বরীর পানি কমে দুর্গাপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১.৫০ মিটার এবং বিজয়পুর পয়েন্টে ২.৯৯ মিটার নিচ দিয়ে বইছে। জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, জেলায় এখনো বন্যা না হলেও আশঙ্কা রয়েছে। তা মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সকালে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা থেকে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাইকে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close