কক্সবাজার প্রতিনিধি

  ২০ জুন, ২০২৪

সেন্টমার্টিনে আবারও নিত্যপণ্যের সংকট

২০ দিনে একবার জেলা প্রশাসন খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়েছে * পানিবেষ্টিত এ দ্বীপটির লোকসংখ্যা ১০ হাজার * চাল, তেল, ডাল পাওয়া যাচ্ছে বেশি দাম দিয়ে

সেন্টমার্টিনে আবারও ভিন্ন খাদ্য ও নিত্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। দ্বীপ থেকে টেকনাফের নৌ যোগাযোগ ২০ দিন ধরে বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মির সংঘাতের কারণে নাফনদী ব্যবহার করা যাচ্ছে না, নৌপথ ছাড়া যোগাযোগের আর কোনো তেমন পথ নেই।

আরেকটি বিকল্প পথ হচ্ছে সেন্টমার্টিন থেকে জাহাজযোগে কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ। এটা সময়সাপেক্ষ এবং শুধু জাহাজ দিয়েই সম্ভব। তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেছেন, এখন সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা চাইলে নাফনদী ব্যবহার করে মূল ভূখণ্ডে যাতায়াত করতে পারেন। আর আইএসপিআর জানিয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের একাধিক জাহাজ মিয়ানমারের জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় থেকে নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

সেন্টমার্টিনের জনসংখ্যা ১০ হাজারের মতো। সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জানান, এই ২০ দিনে মাত্র একবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেন্টমার্টিনে খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। আর সেটা ছিল জেলে এবং যারা সরকারের ভিজিএফ কার্ডধারী। ফলে এখন খাদ্যসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনের কিছু মানুষ জেলে আর অধিকাংশই কৃষক। চাহিদার ২০ ভাগ খাদ্যও এখানে উৎপাদন হয় না। জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ আছে। বন্ধ আছে পর্যটন। ফলে আয়ের উৎস যেমন বন্ধ তেমনি বাইরে থেকে খাদ্য আনারও কোনো সুযোগ নেই। আর তিন-চার দিনের মধ্যে যদি খাদ্য সরবরাহ করা না হয় তাহলে অনেককেই অনাহারে থাকতে হবে বলে তিনি জানান।

একই কথা বলেন সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের এখানে ঈদ নেই। আতঙ্কে আর খাদ্য সংকটে আমাদের দিন কাটছে। দ্বীপের মানুষের হাতে কোনো কাজ নেই। নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় তারা কাজের জন্য কোথাও যেতে পারছেন না। দোকানে যে চাল, তেল, ডাল পাওয়া যাচ্ছে তার দাম অনেক। শাকসবজি শেষ হয়ে গেছে। ট্রলার চলাচল শুরু না হলে সামনের দিনে আমরা কী খাব তাই ভেবে পাচ্ছি না।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close