ইকবাল কবির লেমন, সোনাতলা (বগুড়া)

  ১৬ জুন, ২০২৪

বাউলশিল্পী

সুরেলা কণ্ঠে বিরহীর শান্তি

‘বলবোনা গো আর কোনোদিন,ভ ালোবাসো তুমি মোরে’ পথে-ঘাটে বের হলেই সুরেলা গলার এ গানটি কানে ঢুকে প্রশান্ত করে সংগীতপিয়াসী মানুষের মনকে। তাদের বিরহী আত্মার শান্তি দেয় তার সুরেলা কণ্ঠ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দরাজ কষ্টের এ গানটি একবার হলেও নিজের কণ্ঠে গায়নি বা গাওয়ার চেষ্টা করেনি নতুন প্রজন্মে এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। গত তিন-চার বছরে বাংলাদেশের অধিকাংশ স্টেজ শো ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানে গীত হয়েছে ভালোবাসার কথামালার এ গানটি। আর যার মধুর কণ্ঠে ধারণ করে গানটি ভাইরাল হয়েছে, মানুষের হৃদয়ে স্থান পেয়েছে তিনি হলেন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সোনার সন্তান বাউল সুকুমার মোহন্ত।

১৯৫৬ সালের ১০ মে সোনাতলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার মোহন্ত। তার পিতার নাম সুরেশ চন্দ্র মোহন্ত। তাকে ছোটবেলা থেকে গান শেখাতেন পিতামহ (দাদা) শশি বৈরাগীর ছোট ভাই প্রভু বৈরাগী (ছোট দাদু)। প্রভু বৈরাগীর সঙ্গে বাউল সুকুমার ছোটবেলায় গ্রামে গ্রামে গিয়ে বাউল গান গাইতেন। দাদুর মৃত্যুর পর বৈরাগ্য সাধনে একাই ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, বিভিন্ন মাজারে। বাউল বেশে ভারতে কাটিয়েছেন একযুগ। বাউলিয়ানায় মুগ্ধ করেছেন সংগীত তৃষ্ণায় তৃষ্ণার্ত মানুষকে। তার গানে ফুটে উঠেছে মনবাত্মার শোক-তাপ-প্রেম-বিরহের অনুরণন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন অঞ্চলের অনুষ্ঠানে এবং স্থানীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানগুলোয় বাউল সুকুমার আগে থেকেই সমাদৃত ছিলেন। কিন্তু তিনি পরিশ্রম করে প্রশান্তিময় অনেক গান শোনালেও তার প্রাপ্তিযোগ ছিল একেবারেই নগণ্য। দিন শেষে তার অর্জিত যৎসামান্য আয়ে চাল-ডাল নিয়ে আসলে তবেই পরিবারের চুলোয় রান্না উঠত।

৬৮ বছর বয়সি বাউল সুকুমার মোহন্তকে এখন চেনে না এমন মানুষের সংখ্যা বগুড়ায় কম। এরই মধ্যে তার কণ্ঠে গাওয়া ‘বলবোনা গো আর কোনোদিন, ভালোবাসো তুৃমি মোরে’ গানটি ইউটিউবে ভিউ হয়েছে দুই কোটির বেশি। এ গানটি তাকে সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয় করেছে। এখন যেখানেই স্টেজ শো সেখানেই বাউল সুকুমারের ডাক। জনপ্রিয় গানটির পর তিনি একে একে গেয়ে চলেছেন ‘মানুষ বড়ই স্বার্থপর’, ‘আপন মানুষ চেনা বড় দায়’ ‘মানুষ বড় বেঈমানরে’সহ আরো অনেক গান। নতুন নতুন গানের মাধমে তিনি সমৃদ্ধ করছেন আমাদের সংস্কৃতিকে।

বাউল সুকুমারের মতো কিংবদন্তিরা আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চললেও তারা আমাদের সমাজে এখনো অবহেলিত। এমন গুণী মানুষদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণসহ সম্মানিত করার উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব আমাদের সংস্কৃতির মূল্যবান গণসংস্কৃতিকে। মানুষের সহজীয় ভাবমানসকে। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের প্রত্যাশা এ ব্যাপারে এগিয়ে আসবে রাষ্ট্র। অবদান রাখবেন আমাদের সমাজের অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রমনা ধনি মানুষ।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close