চট্টগ্রাম ব্যুরো

  ১৫ জুন, ২০২৪

ঈদুল আজহা

চট্টগ্রামে পশুর চাহিদা দেশীয় জোগানেই পূরণ

চট্টগ্রামে এবার কোরবানি পশুর চাহিদা প্রায় ৯ লাখ। স্থানীয়ভাবে লালিত-পালিত গবাদিপশুর সংখ্যা বেড়েছে গত বছরের চেয়ে ১০ হাজার বেশি। স্থানীয়সহ দেশের অন্য অঞ্চল থেকে আসা কোরবানির পশু দিয়ে এ চাহিদা পূরণ করা যাবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। খামারিদের মতে, এবারও দেশি গরু, ছাগল ও মহিষে কোরবানি সারতে পারবেন কোরবানিদাতারা। তবে বাজারে শুরুতেই কোরবানি পশুর দাম বেশি হাঁকা হচ্ছে। বিক্রেতা ও খামারিরা বলেছেন, ডলারের দাম বাড়ার কারণে পশুখাদ্যের বিশেষ করে আমদানিকৃত খাদ্যের দাম বেড়েছে। তাই গবাদিপশুর দামও বাড়তি। আবার নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়-ক্ষমতা কমেছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবার তিনটি স্থায়ী এবং ৭টি অস্থায়ীসহ ১০টি পশুর হাট বসেছে। জেলার ১৫টি উপজেলা এলাকায় বসেছে দুই শতাধিক হাট। এসব পশুর হাটে স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্ট করা গবাদি পশুর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কোরবানিযোগ্য পশু নিয়ে আসছেন কৃষক খামারি ও ব্যাপারীরা। মহানগরী এবং জেলার খামারগুলোয়ও বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু। নগরীতে কয়েকটি খামার তাদের বিক্রয়কেন্দ্র খুলেছে। মৌসুমি ব্যাপারীরা তিন পার্বত্য জেলা এবং দেশের উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন জেলা থেকে গরু এনে বিক্রি করছেন।

অনেকে পাড়া-মহল্লার খোলা মাঠ, নির্মাণাধীন ভবনে রেখে এসব গরু বিক্রি করছেন। কোরবানিদাতারাও হাটের ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে বাড়ির পাশের মৌসুমি বিক্রেতাদের কাছ থেকে গরু কিনে নিচ্ছেন। অনলাইনেও কেনাবেচা চলছে। ট্রাকে ট্রাকে গরু নিয়ে আসছেন ব্যাপারীরা। যা অব্যাহত থাকবে কোরবানির আগের দিন পর্যন্ত। ফলে স্থানীয় গবাদিপশুর পাশাপাশি অন্য জেলা থেকে আসা গবাদিপশুতে চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

গতবার নগরী ও উপজেলায় ২২২টি স্থায়ী-অস্থায়ী হাটে বসে। তবে এবার উপজেলায় হাটের সংখ্যা আরো বাড়ছে। নগরীতে পশুর হাট বসে সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায়। সংস্থাটি এবার সাতটি অস্থায়ী হাটে ইজারাদার নিয়োগ দেয়। এর সঙ্গে আছে তিনটি স্থায়ী হাট। অর্থাৎ নগরীতে ১০টি স্থায়ী-অস্থায়ী হাট বসেছে এবার। এর মধ্যে স্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট গরুর হাট ও পোস্তার পাড় ছাগলের বাজার। অস্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে কর্ণফুলী পশুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪১ নং ওয়ার্ডের বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের খালি মাঠ, ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠ ও একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ২৬ নং ওয়ার্ডের বড়পোল সংলগ্ন গোডাউনের পরিত্যক্ত মাঠ, ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড় এবং ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডস্থ সিডিএ বালুর মাঠ। এসব হাটে কেনাবেচা শুরু হয়ে গেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে গবাদি পশু উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি। চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন অনুসারে ঘাটতি আছে ৩৩ হাজার ৪০৬টি কোরবানির পশুর। গত বছর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি। ওই হিসেবে এবার ১০ হাজার ১৯৪টি বেশি গরু উৎপাদিত হয় স্থানীয়ভাবে। তবে গত বছর চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭১৩টি কোরবানি পশুর। অর্থাৎ গতবার স্থানীয় ৩৭ হাজার ৫৪৮টি কোরবানি পশুর ঘাটতি ছিল। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু আসায় সে ঘাটতি পূরণ হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে লালিত-পালিত বা হৃষ্টপুষ্ট করা পশুর মধ্যে গরু আছে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৫টি। এছাড়া ৭১ হাজার ৩৬৫টি মহিষ, এক লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৩টি ছাগল এবং ৫৮ হাজার ৬৯২টি ভেড়া রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চট্টগ্রামে কোরবানি দেওয়া হয়েছিল ৮ লাখ ১৩ হাজার ৫০টি গবাদিপশু। এর আগে ২০২১ সালে ৭ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৫টি, ২০২০ সালে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬টি, ২০১৯ সালে ৭ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৯টি পশু জবাই দেওয়া হয়েছিল।

এবার গো-খাদ্যের দাম বাড়ার ফলে পশুপালনের খরচও বেড়েছে। ফলে, পশুতে বিনিয়োগকৃত টাকা তুলতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানির পশু কিনতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কিত ক্রেতারাও। কারণ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় চট্টগ্রামে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পশু কোরবানি হয়। এখানকার ধনাঢ্য ব্যক্তিরা একাধিক পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close