সাইফুর রহিম শাহীন, কক্সবাজার

  ১৫ জুন, ২০২৪

মিয়ানমার থেকে গুলি-সমস্যা

এক সপ্তাহ পর সেন্টমার্টিনে গেল পণ্যবোঝাই জাহাজ

দ্বীপবাসী এ জাহাজে করেই কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে আসবেন * চাল, ডাল, তেল, লবণ, শাক-সবজি নেওয়া হয়েছে * তিনটি ট্রলারে করে বিজিবি এবং কোস্টগার্ড সদস্যরা নিরাপত্তা দেন

চাল, ডাল, পেঁয়াজ, তেলসহ নানা ধরনের ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বার আউলিয়া নামে একটি জাহাজ। বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের পাহারায় গতকাল শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজটি যাত্রা করে। জাহাজটিতে করে কিছুসংখ্যক যাত্রীও গেছেন। এ দিন বিকেলে দ্বীপে পৌঁছে জাহাজটি।

জানা যায়, সীমান্তের ওপার থেকে মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল। তাই গত এক সপ্তাহ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দিকে নৌযান ছেড়ে যায়নি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন জানান, দ্বীপের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজটি পাঠানো হয়েছে। এটি বঙ্গোপসাগর দিয়ে টেকনাফ পৌঁছে ঘোলারচর হয়ে সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে। পণ্যসামগ্রীর পাশাপাশি কক্সবাজারে আটকাপড়া সেন্টমার্টিনের ২ শতাধিক বাসিন্দাও এ জাহাজে করে ফিরছেন।

গতকাল সকাল ১০টায় বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এমভি বার আউলিয়া জাহাজে তোলা হচ্ছে চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ভোজ্যপণ্য। একই সঙ্গে কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়া সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা ও জড়ো হচ্ছেন নিজ এলাকায় ফেরার জন্য।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, চাল, ডাল, তেল, লবণ, কাঁচা শাক-সবজি সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। আজ এসব খাদ্যপণ্য নিয়ে যাচ্ছি। জাহাজটির কক্সবাজারের প্রতিনিধি হোসাইন ইসলাম জানান, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াতকারী নৌযান লক্ষ্য করে গুলির কারণে নৌযান বন্ধ থাকায় দ্বীপে খাদ্যপণ্য সংকট শুরু হয়। গত বুধবার প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে জাহাজটি পণ্য নিয়ে দ্বীপে যাচ্ছে। এটি প্রশাসন যতদিন চলাচল করতে বলবেন ততদিন যাত্রা করবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দ্বীপটিতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। অবশেষে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কক্সবাজার থেকে খাদ্যপণ্য নিয়ে জাহাজ আসছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারে আটকেপড়া বাসিন্দারাও ফিরছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেটি ঘাট থেকে ৩টি ট্রলারযোগে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের নিরাপত্তায় অন্তত ৩ শতাধিক মানুষ টেকনাফের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিকেল ৩টায় ট্রলারগুলো টেকনাফের মুন্ডারডেইল সাগর উপকূলে পৌঁছে। কিন্তু সাগরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এসব ট্রলার থেকে লোকজনকে সরাসরি কুলে ওঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে কয়েকটি ডিঙি নৌকা করে তাদের কুলে আনা হয়।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে ভেতরে সরকারি সৈনিক এবং আরাকার আর্মির সংঘাতের জেরে টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌরুটের নাফ নদীর নাইক্ষ্যংদীয়া পয়েন্টে বাংলাদেশি ট্রলারকে লক্ষ করে মিয়ানমারের ওদিক থেকে কয়েক দফা গুলি ছোঁড়া হয়। এ ঘটনায় গত এক সপ্তাহ ধরে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপটিতে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এ অবস্থায় আজ (গতকাল) থেকে কক্সবাজার থেকে বিকল্প পথে জাহাজ চলাচল শুরু করা হয়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close