প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৫ জুন, ২০২৪

কোরবানির পশু

ঢাকায় আসছে ব্যথা-বেদনা নাতিবাবুকে দেখতে ভিড়

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের খামারি ঠান্ডু প্রামাণিকের খামারে দেখা গেছে একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়, নাম নাতিবাবু। নাতির মতো আদর যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে বলে এই নাম। ষাঁড়টির ওজন ৪৩ মণ, একনজর দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, ‘নাতিবাবু’ দেশের সবচেয়ে বড় ষাঁড়। দাম হাঁকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। সাড়ে ৯ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট উঁচু হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান শংকর জাতের ষাঁড়টি এলাকায় আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। অপরদিকে, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পদ্মপাড়া গ্রামে শফিউল আলম রাসেলের খামারে শাহীওয়াল ও ক্রস ব্রাহমা জাতের গরু দুটির নাম রাখা হয়েছে ব্যথা ও বেদনা। বিশাল আকৃতির ব্যথা-বেদনাকে দেশীয় খাবার খাইয়ে লালন-পালন করছেন তিনি। ঈদে দুটি গরু বিক্রি করবেন, তবে এখনো ক্রেতা মেলেনি। তাই বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় নিয়ে যাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রতিটি গরুর ওজন ৮০০ কেজিরও বেশি।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ছোট্ট বাছুর ‘নাতিবাবু’কে চার বছর আগে শখের বাসে কিনেছিলেন। এখন এটি বিশালাকৃতির ষাঁড়ে পরিণত হয়েছে। তিনি জানান, নিজের বাড়িতে ফার্ম করে সম্পূর্ণ দেশি খাবার, কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুসি, খড়, সাইলেস ইত্যাদি খাইয়ে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে নাতিবাবুকে। তিনি আরো বলেন, নাতির মতো আদর করে ষাঁড়কে লালন-পালন করেছি। ব্যাপারীরা এসে দেখে যাচ্ছেন গরুটি। ১৫ লাখ টাকা হলে বেচে দেব। শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ নাতিবাবুর মতো বড় আকারের গরু পালনকারীদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করছে।

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, লাল রঙের গরুটির নাম ব্যথা আর কালো রঙের গরুর নাম বেদনা। প্রতিটি গরুর ওজন ৮০০ কেজিরও বেশি। শফিউল আলম রাসেল দেশীয় খাবার খাইয়ে লালন পালন করছেন। এবারের ঈদে বিক্রি করবেন, তবে এখনো ক্রেতা মেলেনি। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় নিয়ে আসেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাসেলের ভাই রতন জানান, দুটি গরুর দাম হাঁকাচ্ছেন ১৪ লাখ টাকা। ৪ বছরেরও বেশি বয়সি এই দুটি গরু প্রতিদিন ১০০ কেজি ঘাস ছাড়াও খড়, খইল ভুসি, ছোলা, ডাবলি খায় আরো ৬০ কেজি। প্রতিটি গরু প্রতিদিন ৮০ কেজি খাবার খায়। গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় খরচও বেড়েছে। রতন জানান, গত বছর ঢাকার গাবতলী হাটে চারটি গরু নিয়ে পরিবহন খরচ, গরু রাখার ভাড়া, গরুর বিক্রি করতে যাওয়া ৬ জনের থাকা খাওয়া সব মিলিয়ে তাদের অনেক খরচ। অনেক কষ্ট করে গরু লালন পালন করেও কাঙ্ক্ষিত দাম পায়নি। সেই কষ্ট থেকেই তারা এবার গরু পালন করে নাম দিয়েছেন দুঃখ, কষ্ট, ব্যথা ও বেদনা। এরই মধ্যে দুঃখ ও কষ্ট নামের দুটি গরু বিক্রি হলেও ব্যথা ও বেদনা নামের গরু রয়ে গেছে।

খামারের মালিক রাসেল জানান, কোনো ফিড জাতীয় খাবার না খাইয়েই ভুট্টার গুঁড়াসহ অন্যান্য দেশীয় খাবার খাওয়ান। হাটে গরু তোলার ইচ্ছা নেই তবে, খামারে বিক্রি না হলে হাটে নিয়ে যাবেন। এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা মেলেনি। তাই বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় নিয়ে যাবেন। যারা ক্রয় করতে চান তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই দাম নির্ধারণ করা হবে। ঈদ পর্যন্ত তার খামারেই রাখা যাবে বলে তিনি জানান।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close