নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

৫ হাজার কোটি টাকা ধার নিচ্ছে ইসলামি ৭ ব্যাংক

বিশেষ তারল্য সহায়তা চালুর পর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার নেওয়া শুরু করেছে শরিয়াভিত্তিক ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো। দুদিনে সাত ব্যাংক নিয়েছে ৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকা।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা নিতে আবেদন করে এসব ব্যাংক, যার পুরোটাই অনুমোদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে জানান, গত মঙ্গলবার চার হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল ব্যাংকগুলো। গত সোমবার শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকের জন্য ‘ইসলামিক ব্যাংকস লিক্যুডিটি ফ্যাসিলিটির (আইবিএলএফ) আওতায় সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য তারল্য সহায়তা দেওয়ার সুযোগ চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওইদিন থেকেই তা কার্যকর বলে জানানো হয়।

এর পরদিন মঙ্গলবার পাঁচটি ব্যাংক ধার চেয়ে আবেদন করে। যেগুলোর পুরোটাই বরাদ্দ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ব্যাংকগুলো নিয়েছিল দুই হাজার কোটি টাকা। বরাদ্দ অনুমোদনের পর ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনমতো ধাপে ধাপে অর্থ নেওয়ার সুযোগ রাখায় বুধবার সন্ধ্যায়ও কয়েকটি ব্যাংক টাকা চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। ধার চাওয়ার বিপরীতে অনুমোদন পাওয়া অংশের অর্থ ব্যাংকগুলো তাদের প্রয়োজনমাফিক তুলে নিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে। এত দিন শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে প্রচলিত ব্যাংকগুলো তারল্যের সুবিধা নিতে পারত রেপো, বিশেষ রেপো ও লিক্যুইডিটি সাপোর্ট ফ্যাসিলিটিজ সুবিধার (এলএসএফ) আওতায়।

ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য তারল্য সহায়তা দেওয়ার বা ব্যাংকগুলোর নেওয়ার সুযোগ ছিল না। আইবিএলএফের সুবিধা নিতে পারবে ১০টি পূর্ণাঙ্গ শরিয়া ধারার ব্যাংক ও ইসলামিক ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানকারী ব্যাংকগুলো। প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা পরিচালনা করছে ৯টি ও ইসলামিক উইন্ডো পরিচালনা করছে ১৪টি ব্যাংক।

ইসলামি ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দেওয়ার এ ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন এ ধারার কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কথা সংবাদ মাধ্যমে আসছে। আইবিএলএফের নীতিমালায় বলা হয়েছে, সপ্তাহের যেকোনো কার্যদিবসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সুবিধা চেয়ে আবেদন করতে পারবে ইসলামি ধারার ব্যাংক। এর মুনাফার হার হবে ব্যাংকগুলোর ৩ মাসের জন্য ‘মুদারাবা মেয়াদি আমানতের’ বিপরীতে ঘোষিত মুনাফা। এই মুনাফার হার সাময়িক। বছর শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঘোষিত চূড়ান্ত মুনাফা অনুযায়ী তারল্য সুবিধার মুনাফা সমন্বয় করা হবে। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মুনাফা কম বা বেশি হলে তাও মেনে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তারল্য সুবিধাটি নিতে ইসলামিক সুকুক বন্ডের (বিজিআইএস) বিনিয়োগকে জামানত হিসেবে রাখতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। কমপক্ষে এক কোটি টাকা নেওয়ার জন্য এই আবেদন করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close