প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ০৮ অক্টোবর, ২০২২

জনপ্রিয় হচ্ছে বনসাই

বনসাই একটি জাপানি শব্দ, যার অর্থ ‘পাত্রের মধ্যে গাছ’। শব্দটি মূলত চীনা শব্দ ‘পুন-সাই’ বা ‘পেনজিং’ থেকে এসেছে। চীনা ভাষায়, ‘কলম’ মানে পাত্র এবং ‘জিং’ মানে দৃশ্য বা ল্যান্ডস্কেপ। তবে বনসাই গাছের সঙ্গে জাপানের একটি দৃঢ় সম্পর্কে আছে।

সপ্তম খ্রিস্টাব্দে, চীনারা পাত্রে বামন গাছ জন্মানোর জন্য বিশেষ কৌশল ব্যবহার করছিল। এই কাজটি ‘পুন-সাই’ (পেনজাই) নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

বনসাই গাছগুলো প্রকৃতির একটি ক্ষুদ্রাকৃতির উপস্থাপনা করার উদ্দেশ্যে করা হয়। বিশাল বৃক্ষ শ্রেণির গাছকে বিশেষ পদ্ধতিতে পাত্রে পালন করাটাই বনসাই শিল্পের জন্ম।

বাংলাদেশেও বনসাই বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। গড়ে উঠেছে ‘বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি’। বাংলাদেশে এটি ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

আজ থেকে ১ হাজার ৩০০ বছরেরও বেশি আগে যখন বনসাই গাছ প্রথম চীনে চালু হয়েছিল, তখন তাদের সমাজের উচ্চবিত্তদের মধ্যে একটি সামাজিক মর্যাদা হিসেবে দেখা হতো। আজ বনসাই গাছ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে জনপ্রিয়। জাপানে বনসাই গাছকে সম্প্রীতি, ভারসাম্য, ধৈর্য এমনকি ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অপরদিকে বৌদ্ধ ধর্মের বিশ্বাস-‘বনসাই ধ্যান বা চিন্তার একটি বস্তু’।

আমরা প্রাচীন যে কটি শিল্প দেখতে পাই তার বেশির ভাগের জন্ম চীনে। আর যে দেশের মানুষের ফুল আর উদযানের প্রতি বরাবর দুর্বলতা, সে দেশে বনসাইয়ের মতো একটি শিল্পের আবিষ্কার কাকতালীয় কিছু নয়। বনসাইয়ের আবির্ভাব নিয়ে অনেক চমকপ্রদ কিছু ধারণা আছে চীনাদের মধ্যে।

চীনা ভ্রমণকারীরা পাহাড়ের চূড়ায় যখন ভ্রমণ করত তখন তারা দেখতে পেত বড় গাছের আকৃতির মতো ছোট ছোট গাছ। মূলত প্রাকৃতিক জলবায়ুর কারণেই সে গাছগুলোর আকৃতি হয়ে গিয়েছিল ছোট। এতটাই ছোট যে, চাইলেই সেগুলো নিয়ে আসা যেত। আবার ধারণা করা হয় গাছগুলো মূল্যবান হওয়ায় চীনারা গাছগুলোকে ছোট করে নিয়ে আসত সমভূমিতে।

সময়ের সঙ্গে জাপানে বনসাইকে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে ভাবা হতে লাগলো। বনসাই নিয়ে জাপানি বিভিন্ন লোকগাথাও আছে। এর মাঝে খুব পরিচিত একটি গল্প সামুরাই যোদ্ধাকে নিয়ে। তার সংগ্রহের সর্বশেষ ৩টি বনসাই গাছকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে একজন শীতার্ত ভিক্ষুকে একটু উষ্ণতা দেওয়ার জন্য। এই লোকগাথাটি নিয়ে পরবর্তীতে মঞ্চ নাটকে রূপান্তর দেয়াও হয়, আঁকা হয় অনেক শিল্পকর্মও।

মধ্যযুগের দিকে জাপানিজদের মাঝে বনসাই বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেল। ফলস্বরূপ, বনসাই শিল্পীদের কদর রাতারাতি বেড়ে গেল সেখানে। অনেকে নিজেরাই বনসাই তৈরি করতে লাগলো ঘরে বসেই। এ দেশে নারীদের সুচিকর্ম যেমন বিশেষ গুণ, তেমনি জাপানে যে নারী বনসাই করতে পারতেন তাদের সেটি বিশেষ গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আবার অনেকেই নিজেদের সংগ্রহের বনসাই দিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজনও করত।

সতেরশ শতকের দিকে এর প্রচার বাড়তে থাকে। তবে ১৮০৬ সালের দিকে ইংল্যান্ডের রানী শার্লট উপহার হিসেবে জাপানের তরফ থেকে সুন্দর একটি বনসাই গাছ পান। এভাবেই জাপানিদের বনসাই ধীরে ধীরে বাকি দুনিয়াতে ছড়িয়ে গেল। সংগৃহীত।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close