দিলরুবা খাতুন, মেহেরপুর

  ০৩ অক্টোবর, ২০২২

এনজিওকর্মী নিখোঁজ অফিসে রক্তের দাগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের বাওট শাখার আশা এনজিওর কর্মী হৃদয় হোসেন (২৩) নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ হৃদয় ছাতিয়ান গ্রামের মিন্টু হোসেনের ছেলে। এনজিওটির দুটি রুমের এখানে-সেখানে রক্তের ছাপ দেখে এলাকার মানুষ সন্দেহ করছে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে। এই সন্দেহে ক্ষুব্ধ মানুষ আশা এনজিওর বাওট ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়ে আটক দেখিয়েছেন। শাখা ব্যবস্থাপক আমিনুল কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এলাকার বাসিন্দা। তবে হৃদয় হোসেনের লেখা একটি চিঠির সূত্র ধরে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার পেছনে শাখা ব্যবস্থাপক আমিনুলের হাত থাকতে পারে। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাওট গ্রামের আশা এনজিও অফিসের বিভিন্ন কক্ষে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। শনিবার (১ অক্টোবর) বিকালে হৃদয় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। সেই থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

হৃদয়ের স্ত্রী কণা খাতুন জানান, শনিবার দুপুরে হৃদয় ও তার পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করেন। বিকালে বাবার কাছে গিয়ে জমিতে সার দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যান হৃদয়। শুক্রবার রাতে তিনি অফিসে থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন। শনিবারও তিনি বাড়ি ফেরেননি। রবিবার (২ অক্টোবর) সকালে বাসায় না আসায় পরিবারের সদস্যরা অফিসে হৃদয়কে খুঁজতে যান। সেখানে বিভিন্ন কক্ষে রক্তের ছাপ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের খবর দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন হৃদয়ের খোঁজ জানতে চান। কিন্তু কোনো সদুত্তর না পেয়ে স্থানীয় ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে গণপিটুনি শুরু করেন। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক করা হয় অফিসের ব্যবস্থাপক আমিনুলকে।

এদিকে হৃদয়ের বাড়ি থেকে তার হাতে লেখা একটি কাগজ উদ্ধার করে পুলিশ। সেখানে বলা হয়েছে, ওই অফিসের নারী কর্মীর সঙ্গে ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তার পুরো ঘটনা হৃদয় জানেন। ভিডিওসহ বেশ কিছু তথ্য তার কাছে আছে বলে দাবি করে আশা এনজিওর ডিএম বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ লিখে রেখেছিলেন। সেটি তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে হৃদয়ের বাবা মিন্টু আলী জানান, বেশ কিছুদিন ধরে অফিসের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে ওই অফিসের এক নারী কর্মীর অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে তার ছেলের ঝামেলা চলছিল। তার সব তথ্য তার কাছে আছে বলে দাবি করেন মিন্টু আলী। এসব বিষয়ে ব্যবস্থাপক তার ছেলেকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ মানুষের হাত থেকে শাখা ব্যবস্থাপক আমিনুলকে উদ্ধার করে আটক দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রকৃতই হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে, না হৃদয় নিজে আত্মগোপনে রয়েছেন, সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে এই নরহত্যার রহস্য উদঘাটন এবং হৃদয়ের অবস্থান জানতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পুলিশ শিগগিরই ঘটনার প্রকৃত কারণ খোঁজে বের করবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close