জুবায়েল হোসেন, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ)

  ০৩ অক্টোবর, ২০২২

নৌকাবাইচে অনাবিল আনন্দ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে যমুনা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব শেষ হয়েছে। শনিবার (১ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার ক্ষিদ্রমাটিয়ায় এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে মোটরসাইকেল পুরস্কার গ্রহণ করে মুকুন্দগাঁতীর সোনার তরী নামের নৌকার মাঝি-মাল্লারা। মুকুন্দগাঁতি ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামবাসীর আয়োজনে এবং বেলকুচি পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় স্থানীয় ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অর্ধশতাধিক নৌকা অংশগ্রহণ করে। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা দেখতে শত শত মানুষের ভিড় জমে যমুনার দুই পাড়ে। নৌকাবাইচে বৈঠার মারার ঝাপুড়-ঝুপুড় শব্দণ্ডতান আর ঢোল-করতালের বাজনায় অনাবিল আনন্দ পেয়েছেন দর্শকরা।

এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মাঝি-মাল্লাদের বৈঠা ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো যমুনার তীর। নৌকাবাইচ দেখতে দুপুর থেকে যমুনার তীরে ভিড় জমায় নারী-পুরুষ। উচ্ছ্বাস ও আনন্দ নিয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। ঢোল-করতালের তালে তালে গ্রামবাংলার গান ও বৈঠার ছন্দ মাতিয়ে তোলে নৌকাবাইচের চূড়ান্ত পর্বে।

এ ছাড়া যেমন খুশি তেমন সাজ প্রদর্শনীও সবার দৃষ্টি কাড়ে। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টিভিসহ নানা পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাজেদুল। পৌর মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজার সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর্জা সোলেমান হোসেন, বড়ধুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছির উদ্দিন মোল্লা প্রমুখ।

মেয়র বলেন, বেলকুচিতে যমুনা নদীর তীরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নৌকাবাইচ প্রতি বছরই হয়। বেলকুচি তাঁত শিল্পের জন্য পরিচিত, এখন নৌকাবাইচের জন্য নতুন পরিচিতি পেয়েছে। এটা ভালো দিক ও আনন্দের। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছর নৌকাবাইচ অব্যাহত থাকবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close