মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর)

  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

হারিয়ে যাচ্ছে কোন্দা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে কোন্দা। যা তালগাছ দিয়ে তৈরি করা হয়। স্থানীয় ভাষায় কোন্দা বলা হলেও এটা ডোঙ্গা নামেও পরিচিত। কোন্দা নৌকার মতো বিশেষভাবে তৈরি বাহন। তবে শুধু একজন, বড় জোর দুজন যাতায়াত করতে পারেন। এক সময় উপজেলার সর্বত্র চোখে পড়ত এই কোন্দা। খাল, বিল, জলাশয় এমনকি নদীতেও গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের অন্যতম বাহন ছিল। সাধারণত দু-একজনের পারাপার, মাছ ধরা, ধান কাটা, শাপলা তোলা, শামুক সংগ্রহ, বিল ও পুকুরের মাছের ঘেরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো কোন্দা।

কোন্দা অনেকের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমও ছিল। এছাড়াও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ খেলায়ও কোন্দার ব্যবহার হতো। গ্রামে কোন্দা বাইচের আয়োজন হতো।

গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি, খাল বিল জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আর কোন্দার দরকার হয় না। তাছাড়া এখন আর আগের মতো অত তালগাছও নেই।

স্থানীয়রা জানান, মাত্র দুই-তিন দশক আগেও কোন্দার ব্যাপক প্রচলন ছিল। বিলে ও গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি থাকত সারা বছর। লোকজন নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজসহ বাড়ি থেকে হাটবাজার এবং বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতেন কোন্দা দিয়ে। এর অন্যতম কারণ ছিল তালের কোন্দা বেশ টেকসহ ও মজবুত। যদিও খুব বেশি মানুষ বা মালামাল বহন করা যেত না। তবে ছোটোখাটো বাজারঘাট ও পারিবারিক কাজে নিত্য ব্যবহার হতো কোন্দা।

কিন্তু এখন এর ব্যবহার না থাকায় কোন্দা তৈরির কারিগররা তাদের পেশা পরিবর্তন করে নিয়েছেন। অনেক কারিগর তাদের পৈতৃক এই ব্যবসা ধরে রাখার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনো কিছু কোন্দা তারা তৈরি করছেন।

জানা গেছে, উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের চতন্তর গ্রামে অর্ধশতাধিক পরিবারের পৈতৃক পেশা ছিল কোন্দা তৈরি। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, এখনো সেখানে কিছু কিছু কোন্দা তৈরি হয়। এ সময় কয়েকজন কারিগর জানান, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, তালগাছ না পাওয়া, কোন্দার দাম বৃদ্ধি, পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি কম হওয়ায় আগের মতো আর কোন্দা তৈরি হয় না। এর প্রচলনও শেষ হয়ে যাচ্ছে।

‘আগে খাল-বিলে নিয়মিত পানি থাকায় সারা বছর কোন্দা তৈরি হতো। এখন শুধু বর্ষায় তৈরি করা হয়। আর কোন্দা তৈরির উপযোগী একটি তালগাছ কিনতে ১০ হাজার টাকা লাগে। সেই গাছ কেটে আনতে আরো ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এরপর দুজন কারিগরের প্রায় এক সপ্তাহের পরিশ্রমে একটি কোন্দা তৈরি হয়। অথচ একটি কোন্দা ১২-১৫ হাজার টাকার বেশি বিক্রি করা যায় না।

কারিগর আল হামিদ বলেন, এখন আর কোন্দা তৈরিতে লাভ নেই। পৈতৃক ব্যবসা ছিল। যা বাপ-দাদার কাছ থেকে শিখেছি। যার মায়ার কারণে এবং এক ধরনের বাধ্য হয়ে এই পেশায় পড়ে আছি।

রাজারগাঁও থেকে আসা রফিক নামের একজন ক্রেতা জানান, ছোটবেলায় সাড়ে ৩ হাজার কিংবা ৪ হাজার টাকায় একটি তালের নৌকা নিলে তা ১০-১২ বছরে নষ্ট হতো না।

এ বিষয়ে বাকিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন বলেন, আমার ইউনিয়নে তালগাছের নৌকা তৈরির বেশ কয়েকজন পরিবার রয়েছে। এরা প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তালের নৌকা তৈরি করে এই পেশাকে ধরে রেখেছেন। আসছে বছর এই পরিবারগুলো পরিষদ থেকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close