নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রনির অবস্থা অপরিবর্তিত দোয়া চাইলেন স্ত্রী

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে দগ্ধ কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনিসহ দুজনের অবস্থা অপরিবর্তিত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আহত কৌতুক অভিনেতা রনি ও পুলিশ কনস্টেবল মো. জিল্লুর রহমানের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের মিটিং শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডা. সামন্ত লাল সেন এ কথা জানান।

তিনি বলেন, অভিনেতা আবু হেনা রনির অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তার শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। শরীর ১৫ শতাংশের বেশি দগ্ধ হয়েছে। তবে এখন কিছুটা ভালো তিনি। পুলিশ সদস্য জিল্লুর রহমানকেও শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। বর্তমানে তারা বার্ন ইউনিটের হাই ডিপন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিনেতা আবু হেনা রনির স্ত্রী রুমানা রশীদ সম্পা বলেন, ‘হাসপাতালের আন্তরিকতা ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। চিকিৎসকদের আন্তরিকতা এবং এখন পর্যন্ত যে চিকিৎসা চলছে তাতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। উনারা (মেডিকেল বোর্ড) যা ভালো মনে করবেন আমরা সেটাই করব।’ এ সময় তিনি স্বামীর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা এশিয়ার মধ্যে উন্নত একটি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে এসেছি। এখানে অতীতে আমরা যে চিকিৎসা দেখেছি, তা যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য। চিকিৎসকদের পরামর্শ আমরা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করব এবং তাদের চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা দেব।’

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, আহতদের চিকিৎসায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। এরই মধ্যে তাদের চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে গাজীপুরে জেলা পুলিশ লাইনস মাঠে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান ও নাগরিক সম্মেলনে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনিসহ পাঁচজন। দগ্ধ অন্যরা হলেন- কনস্টেবল জিল্লুর রহমান, মোশাররফ হোসেন, ইমরান হোসেন ও রুবেল হোসেন। ওইদিনই অভিনেতা রনি ও কনস্টেবল জিল্লুর রহমানকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনা বার্নে দগ্ধদের চিকিৎসায় বার্ন ইউনিটের পরিচালক মো. আবুল কালামকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিসপেরেটরি মেডিসিন ও হেমাটোলজি বিভাগের দুজন চিকিৎসককে বোর্ডে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনায় সুস্থ তদন্তে শনিবার জিএমপির ডিসি (অপরাধ-উত্তর) আবু তোরাব মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জিএমপির এডিসি (উত্তর) রেজনোয়ান আহমেদ, এসি (প্রসিকিউশন) ফাহিম আশজাদ ও মেট্রো সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close