প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ০২ জুলাই, ২০২২

ইউক্রেনের গম রপ্তানিতে নিরাপত্তা দেবে রাশিয়া

বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনীয় গম রপ্তানির জন্য সমুদ্রপথে একটি বাণিজ্য রুট চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার মস্কো সফররত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সঙ্গে বৈঠককালে এ নিশ্চয়তা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার এ আশ্বাসে বিশ্বব্যাপী ইউক্রেনীয় ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গম রপ্তানির পথ সুগম হবে। খবর নিক্কেই এশিয়ার।

ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ। তবে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ রাশিয়া থেকে রপ্তানি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। জবাবে রাশিয়াও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে। বিশেষ করে অভিযোগ উঠেছে, ইউক্রেন থেকে গমসহ খাদ্যশস্য রপ্তানিতে বাধা দিচ্ছে রাশিয়া। কারণ রাশিয়া কৃষ্ণ সাগর অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ফলে ইউক্রেন থেকে সমুদ্রপথে পণ্য রপ্তানি বিঘিœত হচ্ছে।

একে তো যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সেইসঙ্গে খাদ্য সংকটও তৈরি হয়েছে। দেশে দেশে গমের সংকটে খাদ্যপণ্যের দামও বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মস্কো সফরে গেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো।

দুই নেতার বৈঠকের পর ক্রেমলিনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উইদোদো বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রশংসা করি। পুতিন জানিয়েছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া, উভয় দেশ থেকেই খাদ্য ও সার সরবরাহের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবেন। এটি নিঃসন্দেহে ভালো খবর।’

উইদোদো আরো জানান, তিনি বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে আবারও খাদ্য ও সারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্যোগকে সমর্থন করেন। এই উদ্যোগের মধ্যে আছে কৃষ্ণ সাগরের মাধ্যমে ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্যের রপ্তানির পরিকল্পনা।

উইদোদো বলেন, ‘খাদ্য ও সার হচ্ছে মানবতার সঙ্গে জড়িত বিষয়। খাদ্য ও সারের সাপ্লাই চেইনে বিঘœ ঘটায় লাখো মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে; বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।’

সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘আমরা ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের কৃষিপণ্য উৎপাদকদের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফেট, পটাশ সার ও উৎপাদনে প্রয়োজন হয় এরকম কাঁচামালের পূর্ণ চাহিদা মেটাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’

তবে পুতিনের দাবি, পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত বিধিনিষেধের কারণেই মূলত এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

রাশিয়ার দাবি, তারা স্নেক আইল্যান্ড থেকে স্বদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং এতে প্রমাণ হয়, ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি করার জন্য জাতিসংঘ যে মানবতার করিডোর তৈরির চেষ্টা করছে, তাতে রাশিয়া কোনো রকম বাধা দিচ্ছে না।

জি-২০ জোটের বর্তমান চেয়ারম্যান উইদোদো জানিয়েছিলেন, তিনি বৈশ্বিক খাদ্য সংকট নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী।

উইদোদো গত সোমবার জি-৭ সম্মেলনে সতর্ক করেন, সারের সরবরাহে বিঘœ ঘটলে উন্নয়নশীল দেশের ২০০ কোটি মানুষ চাল সংকটে ভুগবে। তিনি উপস্থিত নেতাদের সব বিধিনিষেধ থেকে সার ও খাদ্যকে বাইরে রাখার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পুতিন ‘বৈশ্বিক বাজার থেকে খাদ্য কেড়ে নেওয়া’ এবং খাবারের দাম বাড়ার জন্য পশ্চিমা শক্তিদের আরোপ করা বিধিনিষেধকে দায়ী করেন।

পুতিন বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান সার উৎপাদন করে, তাদের মালিক এবং এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যরাও বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছেন। ফলে যেকোনো ধরনের চুক্তি সাক্ষর করার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলো এমন এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যে বৈদেশিক বাজারে রুশ খাদ্য ও সার সরবরাহ করা বেশ জটিল হয়ে গেছে।’ পুতিন আরো জানান, রাশিয়া যেকোনো বন্ধুভাবাপন্ন দেশকে সার সরবরাহ করতে প্রস্তুত।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close