নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৯ জুন, ২০২২

ঢাকা দক্ষিণে হচ্ছে কৃষকের বাজার

সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ খাদ্যের সহজপ্রাপ্য নগর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নগর এলাকায় কৃষকের বাজার স্থাপনের মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব। কৃষকের বাজার এমন একটি বাজারব্যবস্থা যেখানে মধ্যস্বত্বভোগীর অনুপস্থিতিতে কৃষকরা সরাসরি তার নিরাপদ খাদ্যপণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেন। ফলে ভোক্তাদের জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবারের জোগান নিশ্চিতের পাশাপাশি কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। এ বিবেচনায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রকল্পের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে স্থাপিত হতে যাচ্ছে ৬টি কৃষকের বাজার, যেখানে প্রতি সপ্তাহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং মৎস্য অধিদপ্তরের যাচাই করা ১০ কৃষক তাদের উৎপাদিত নিরাপদ পণ্য ক্রেতাদের কাছে সরাসরি বিক্রি করবেন।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শীতলক্ষ্যা হলে অ্যাম্বেসি অব দ্য কিংডম অব দ্য নেদারল্যান্ডস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এলাকাভিত্তিক কৃষকের বাজার স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রারম্ভিক সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ। এ ছাড়া আরো বক্তব্য দেন ঢাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড নম্বর ১-এর কাউন্সিলর মো. মাহবুবুল আলম, ওয়ার্ড নম্বর ১৯-এর কাউন্সিলর আবুল বাশার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. ফজলে শামসুল কবীর, প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম, অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মেরীনা নাজনীন, অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বাবর আলী মীর, প্যানেল মেয়র মো. শহীদ উল্লাহ, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফুড সিটি কো-অর্ডিনেটর শরীফা পারভীন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের গাউস পিয়ারী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কে জে এম আবদুল আউয়াল, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট লাইভস্টক অফিসার মো জসীমউদ্দিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বি এম মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার জিয়াউর রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আক্তার।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মেরীনা নাজনীন, অঞ্চল-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সুয়ে মেন জো, অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সাসটেইনেবেল এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট জাহাঙ্গীর আলম, ফ্রেশ মার্কেট ট্রেইনার মো মহিবুল্লাহ।

ফরিদ আহাম্মদ বলেন, কৃষক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। নতুবা নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ কঠিন হবে। যেহেতু উন্মুক্ত স্থানে কৃষকের বাজারটি স্থাপিত হবে, তাই স্টোরেজ ব্যবস্থা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই কোন পণ্য বিক্রি হবে তা নির্ধারণ করে দিতে হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরীক্ষাগারে স্যাম্পল পরীক্ষা করে ভোক্তাকে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে কি না- তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। কৃষকদের পণ্য সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা কাঁচাবাজার স্থাপন করতে যাচ্ছি। এসব কাঁচাবাজারে কৃষকের জন্য আলাদা জায়গা দেওয়া গেলে কৃষকের বাজার কার্যক্রমটি টেকসই হবে এবং খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। এ কার্যক্রমে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে সহযোগিতা থাকবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close