কক্সবাজার প্রতিনিধি

  ২৮ মে, ২০২২

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদকসেবীর ৫০% তরুণ ২৪ ধরনের মাদক আসে মিয়ানমার থেকে

দেশের মাদকসেবীদের মধ্যে ৫০ শতাংশই তরুণ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়া ২৪ ধরনের মাদকদ্রব্য প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আসে বলেও জানান তিনি। গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারের রামু বিজিবি রিজিয়ন মাঠে মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। মাদকের সঙ্গে জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বিজিবি সীমান্তে মাদক ও মানব পাচাররোধে কাজ করছে। আমাদের দেশে মাদকসেবীর ৫০% হচ্ছে তরুণ। আমাদের ২৪ ধরনের মাদক আসে পাশের দেশ মিয়ানমার থেকে। মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ২৭৪ কিলোমিটার। সীমান্তে কাজ করা অনেক দুরূহ ব্যাপার। তাই বিজিবি হেলিকপ্টার থেকে শুরু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা। বিজিবি সদস্যরা দেশের জন্য দুঃসাহসিক কাজ করে যাচ্ছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। ২০৪০ সালে উন্নয়নশীল দেশে উপনীত হব।

এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, মো. আখতার হোসেন, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ, বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমণ্ডউস-সাকিব, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মো. ফখরুল আহসান, কক্সবাজার ত্রাণ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনার রেজোয়ান হায়াত, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়ন সূত্র জানায়, গত ১ বছরের মালিকবিহীন উদ্ধার করা ৯০ লাখ ৮০ হাজার ৪৭৭ পিস ইয়াবা, ২৩ হাজার ৭৫২ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৬ হাজার ৭৬৭ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৩৩৯ বোতল মদ, ১৫৪ বোতল ফেনসিডিল, ২০৬ লিটার বাংলা মদ, ১৭ কেজি গাঁজা, ৪৮,০১৯ পিস বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট, ১০ হাজার ৯৮৪ প্যাকেট সিগারেট এবং ৭ বোতল অ্যামোনিয়াম সালফার ধ্বংস করা হয়েছে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আটক ১ হাজার ৯৭৯ জন আসামিসহ ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৩০ পিস ইয়াবা, ২৭ হাজার ৪৪৮ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১ হাজার ৩০৫ ক্যান বিভিন্ন ধরনের বিয়ার, ৯৮ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ১৩৭ বোতল ফেনসিডিল, ৫৮ লাখ ৬ হাজার ৮০০ লিটার বাংলা মদ, ২২ হাজার ৯৯৫ কেজি গাঁজ, ৩ হাজার ১৫০ কেজি আফিম মামলার মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close