নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১২ জানুয়ারি, ২০২২

বিধিনিষেধে প্রভাব পড়েনি বাজারে

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে বিধিনিষেধ আরোপের খবরে ক্রেতার চাপ বাড়তে দেখা যেত নিত্যপণ্যের বাজারে। এতে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত হুহু করে। তবে সোমবার ঘোষিত এবারের বিধিনিষেধে তেমন প্রভাব নেই বাজারে। দেখা যায়নি ক্রেতার হুড়োহুড়ি।

আগের দামেই বেচাকেনা হচ্ছে সবজি থেকে শুরু করে মুদি দোকানের বিভিন্ন পণ্য। তবে বিক্রেতারা বলছেন, নতুন করে দাম না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম আগে থেকেই বেশ চড়া রয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সোমবার বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেওয়া এই ১১ দফা বিধিনিষেধ কার্যকর হবে কাল বৃহস্পতিবার থেকে। অন্যবার বিধিনিষেধের খবরে বাজারে দাম বেড়ে গেলেও, এবার তেমনটা দেখা যায়নি।

রাজধানীর বিজয় সরণি কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মো. সবুজ বলেন, ‘অন্যবার তো মানুষ বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আজ তেমন কাস্টমারও নেই। জিনিসপত্র আগের মতোই আছে। তবে ফুলকপির দাম বেড়েছে। এক কেজির কম ওজনের ফুলকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুদিন আগেও এর দাম ৩০ টাকা ছিল।’

‘আসলে দাম আর কত বাড়ব? এই শীতের মধ্যেও তরিতরকারির দাম বেশি। ২০ টাকায় শুধু আলু বেচন যায়। টম্যাটোর কেজি ৪০, তাও তো দাম একটু কমেছে, আগে ৫০ টাকা ছিল। এ ছাড়া বেগুন ৪০ থেকে ৪৫, শিম ৩৫ থেকে ৪০, পাতাকপি ৩০ থেকে ৩৫, চিচিঙা ৫০ ও গাজর ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

নতুন করে দাম না বাড়ার কথা জানান ফার্মগেটের সবজি বিক্রেতা মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘কাঁচাবাজারের কোনো ঠিক নেই, আইজ ২ টাকা বেশি তো কাইল দুই টাকা কম। তবে ফুলকপি ছাড়া অন্যান্য তরিতরকারির দাম ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে একই রকম আছে। কাঁচামরিচের দাম একটু কমেছে, এক পোয়া ১০ টাকা।’

মুদি দোকানি মো. সুমন বলেন, ‘মুদি আইটেমের তেমন বাড়া-কম নেই। দুই মাস ধরেই তেলের বোতল ১৬০ টাকা লিটার। শুনছি দাম নাকি আরো বাড়বে। নতুন পেঁয়াজের কারণে দাম একটু কম আছে। দেশি পেঁয়াজ ৪০, ইন্ডিয়ানটা ৫০ টাকা। ওই দেশের রসুনের দাম ১৪০ টাকা। দেশিটা ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আদা দেশিটা ৮০ টাকা কেজি, তবে আমদানির আদা ১৪০ টাকা। দেশি মসুর ডালের কেজি ১১০ টাকা, আর বড় গোটার মসুর ডাল ৮০ টাকা।’

মাংসের বাজার রয়েছে আগের মতোই। নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া ব্রয়লারের দামও কমে আসছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায়, পাকিস্তানি কক ৩০০ টাকা কেজি। দেশি মুরগি ৪২০ টাকা আর হাঁসের কেজি সাড়ে ৪০০ টাকা।

ফার্মগেটের মুরগি বিক্রেতা মোহাম্মদ কিতাব আলী বলেন, ‘তিন মাস ধরে কক মুরগির দাম ৩০০ ঢাকার আশপাশেই ব্যচতেছি। কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমবেশি ছাড়া খুব একটা বাড়ে-কমে না। তবে ব্রয়লারের দাম আগে ২০০ টাকার বেশি ছিল, এখন তা কমে ১৮০ টাকা হইছে, কারো কাছে আর একটু কমেও রাখতেছি।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close