রাজশাহী ব্যুরো

  ০৯ ডিসেম্বর, ২০২১

গোদাগাড়ীতে বেড়েছে টমেটোর আবাদ, ফলনও ভালো

দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টমেটো উৎপাদন হয় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায়। চলতি মৌসুমে আগের তুলনায় টমেটোর আবাদ বেড়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। টমেটো বাণিজ্যে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

কয়েক বছর ধরে নানা সংকটময় সময় পার করছেন এখানকার চাষিরা। এর মধ্যে এসেছে কোভিডের ধাক্কা। এবারে টমেটোর উৎপাদন ভালো হওয়ায় সংকট অনেকটাই সামাল দিতে পারবেন বলে আশা করছেন চাষিরা।

জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলায় ১৯৯৪ সাল থেকে টমেটো চাষ শুরু হয়। প্রায় দুই যুগ ধরে ব্যাপক হারে টমেটো উৎপাদনে সুনাম কুড়িয়েছেন এখানকার চাষিরা। টমেটো চাষের মৌসুম ধরা হয় সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে অনেকেই বেশি লাভের আশায় আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকেই আগাম চাষ শুরু করেন। তবে গোদাগাড়ী ছাড়াও রাজশাহীর পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলে আগাম টমেটোর আবাদ হয়। বেশি ফলনের আশায় এবার বিপুল প্লাস, ভিএল-৬৪২, সাওসান-৮৩২৩, ইউএল-৭৪২, মহারাজ ও সালামত জাতের উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের টমেটোর আবাদ করেছেন কৃষকরা। যার কারণে আগের চেয়ে চলতি মৌসুমে ফলন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গোদাগাড়ীতে প্রায় ৩৬ জাতের টমেটোর আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৫ থেকে ৬ জাতের হাইব্রিড টমেটোর আবাদ বেশি হয়। দেশি ৫টি জাতের টমেটো থাকলে এগুলোর তেমন আবাদ নেই। প্রতি বিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে আয় হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাই চাষিরা টমেটো চাষের দিকে ঝুঁকছেন। আর ভালো লাভের আশায় চাষিরা প্রতি বছরই সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী প্রায় ৬ মাস টমেটো নিয়েই ব্যস্ত থাকে। টমেটো মৌসুমে প্রতিদিনই শত শত ট্রাকযোগে এখানকার টমেটো যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে রবি মৌসুমে রাজশাহীতে টমেটোর মোট আবাদ ছিল ৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর। গড় ফলন ২২.৬ টন। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ টন এবং অর্জন হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ। মোট উৎপাদন হয়েছে ৮২ হাজার ৬২১ টন।

চলতি অর্থবছরে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৬ হেক্টর। শুরুতেই এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩৭.২৩ হেক্টর হয়েছে। বর্তমানে বহুগুণ বেশি আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছে কৃষি সম্প্রসারণ কর্তৃপক্ষ।

এর কারণ হিসেবে বলছে, এ বছর চরাঞ্চল, বাড়ির আঙিনা ছাড়াও সাথি ফসল হিসেবে টমেটোর চাষ হচ্ছে। চলতি বছরে মৌসুমের শুরুতেই এখন পর্যন্ত টমেটো উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭৭ হাজার টন। অথচ গত বছর মোট উৎপাদন ছিল সাড়ে ৮৬ হাজার টন। আর রাজশাহীর ৯টি উপজেলার মধ্যে গোদাগাড়ী, পবা ও বাগমারা উপজেলায় মোট উৎপাদনের তিন ভাগের দুই ভাগের বেশি টমেটো উৎপাদন হয়।

স্থানীয়ভাবে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার টমেটোর বেচাকেনা হয়।

গোদাগাড়ীর মাটিকাটা গ্রামের টমেটো চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, ১৫ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছি। প্রথমে প্রায় ২০ মণ টমেটো উঠেছে। প্রতি মণ (কাঁচা) টমেটো বিক্রি হয়েছে ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকায়। দিন যত যাবে, তত বেশি টমেটো উঠবে। প্রথমদিকে ভালোই দাম পাওয়া যায়। কিন্তু পরে দাম কমে যায়। তবে বর্তমানেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন সুলতানা জানান, এ অঞ্চলে টমেটোর চাষ দুবার হয়। এরই মধ্যে কিছু টমেটো মৌসুমের শুরুতেই উঠে। এ সময় টমেটোর বেশি দাম পান চাষিরা। প্রতি বছর এখানে টমেটো নিয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কে জে এম আবদুল আউয়াল বলেন, টমেটো অর্থকরী ফসল। প্রতি বছরই টমেটোর চাষের পরিধি বাড়ছে। ফলন বৃদ্ধিতে কৃষকরাও আধুনিক চাষের কলাকৌশলের দিকে ঝুঁকছেন। আর তাই ফলনও বাড়ছে।

তিনি বলেন, প্রথমদিকে বাজারে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে। বতর্মানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে মৌসুমের শেষে অর্থাৎ মার্চ মাসের দিকে এই টমেটোই বিক্রি হবে ৫০ থেকে সর্বনিম্ন ১০ থেকে ১৫ টাকায়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close