প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ০৫ ডিসেম্বর, ২০২১

ইউনেসকো পুরস্কার বিজয়ী মসজিদ

জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকার কাছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অবস্থিত প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ। মসজিদটির নাম ‘দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ’। ১ ডিসেম্বর ইউনেসকোর এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অফিস থেকে অনলাইনে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল ফিজি থেকে শুরু করে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের শ্রেষ্ঠ কাজগুলো প্রতি বছর স্বীকৃতি দেয় ইউনেসকো। সেজন্য এ পুরস্কারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ডস ফর কালচারাল হেরিটেজ কনসারভেশন।’ ইউনেসকো জানিয়েছে ২০২১ সালে ছয়টি দেশের ৯টি স্থাপনাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছে কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থাপনা ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেয়েছে।

মসজিদের ইতিহাস : ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর ইউনিয়নে এই মসজিদ নির্মিত হয় ১৮৬৮ সালে। তখনকার জনসংখ্যার বিবেচনায় এটি ছোট আকারে নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর মসজিদটি একাধিকবার সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় এই মসজিদের অবকাঠামো ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাচ্ছিল। কয়েক বছর আগে মসজিদটিকে সংস্কার করে পুরোনো রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন সেখানকার সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ এ সংস্কার কাজের নেতৃত্ব দেন। ২০১৮ সালে এর সংস্কার কাজ শেষ হয়। পুরোনো মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয় নতুন আরেকটি মসজিদ। পুরোনো মসজিদটি এখন লাইব্রেরি এবং মক্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। ইউনেসকোর স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য স্থপতি আবু সাঈদ আহমেদ আবেদন করেন।

এ মসজিদ কেন স্বীকৃতি পেয়েছে?

ইউনেসকো এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব স্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যের যে বৈচিত্র্য ধরে রাখা হয়েছে সেটি সত্যিই প্রশংসার বিষয়। যেসব স্থাপনা পুরস্কার পেয়েছে সেগুলোতে টেকসই উন্নয়নের নানা দিক রয়েছে। পুরোনো স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ঠিকমতো হয়েছে কি না সেটি বিশ্লেষণ করে দেখে ইউনেসকোর বিশেষজ্ঞ কমিটি।

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ জানান, সে মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে দোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদ। পুরোনো স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি এবং বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগকে উৎসাহ দেয় ইউনেসকো। সেজন্য ২০০০ সাল থেকে এ পুরস্কার চালু করেছে ইউনেসকো।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত বাংলাদেশে পুরোনো মসজিদ ভেঙে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এক্ষেত্রে পুরোনোটা রেখে নতুনটা তৈরি করা হয়েছে। পুরোনোটাকে একেবারে আদি অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

১৫০ বছর আগে চুন-সুরকি দিয়ে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ আরো জানান, এ মসজিদকে পুরোনো রূপ দেওয়ার জন্য চুন-সুরকি দিয়ে সংস্কার করতে হয়েছে।

মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল, পুরোনোকে সঙ্গে নিয়ে নতুনের কথা বলা।’

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, এ অঞ্চলের মসজিদগুলো আরব দেশের মসজিদগুলোর চেয়ে ভিন্ন ধাঁচের। তিনি বলেন, আমাদের পুরোনো মসজিদগুলোতে কোথাও মিনার পাবেন না। মিনার বলতে বাঙালিরা সে রকম কিছুই চিনত না। যেভাবে চুন-সুরকি দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হতো সেটিও অন্যদের তুলনায় ভিন্ন।

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, যখন কোনো অঞ্চলে বহিঃশত্রুর আক্রমণ হয়, তখন বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন করা হলেও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো সাধারণত ধ্বংস করা হয় না। সেজন্য এগুলো টিকে থাকে। সূত্র : বিবিসি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close