টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

  ০৫ ডিসেম্বর, ২০২১

টাঙ্গাইল ছাত্রলীগের সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী

খালেদার চিকিৎসার নামে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় একটি চক্র

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, একটি চক্র খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নাম করে ও নানা অরাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। তাদের সে চেষ্টা কখনো সফল হবে না। যে উদ্দেশ্যে ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। তারা এখনো বাংলার মাটিতে তৎপর রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা আরো বহুদূর এগিয়ে যাবে। কেউ এটাকে প্রতিরোধ করতে পারবে না। দেশকে আমরা আর অস্থিতিশীল করতে দেব না।

কৃষিমন্ত্রী গতকাল শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন ও সাফল্যের যে উচ্চতায় উঠেছে তা ধরে রাখতে হলে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে সত্যিকার অর্থে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে হলে যেকোনো মূল্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। নোটিস হয়েছে, সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়েছে। নানাভাবে এ দেশে নির্বাচন হয়েছে। আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন হয়নি। আমরা বলি ’৯১ এর নির্বাচন খুবই স্বচ্ছ নির্বাচন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচন অবশ্যই স্বচ্ছ নির্বাচন। ২০০৮ সালের নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর স্বচ্ছ নির্বাচন। সেটাই যদি হয় তখন তো আইনই ছিল না। তারপরও তো হয়েছে, যেটাকে আপনারা বলছেন সুষ্ঠু নির্বাচন।

ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এই সংবিধান ১৯৭২ সালে করা হয়েছিল। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা এই আইন করেননি কেন? তারাও কিন্তু আইন করেননি। নানা কারণে আইন হয়নি।

বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি তো নির্বাচন করে ১৯৯১, ২০০১ সালে ক্ষমতায় গিয়েছিলেন। তখন কী বলেছিলেন, নির্বাচন সঠিক হয়নি-প্রশ্ন রাখেন তিনি। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন চলাকালে সরকারের সব কিছু পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও কমিশনাররা শপথ নিয়েছেন সঠিক এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য। নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো দায়িত্ব নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ প্রশাসন সব কিছু থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নিয়ে যদি দায়িত্ব পালন না করে এর দায় প্রধানমন্ত্রীর নয়, আওয়ামী লীগেরও নয়।

তিনি বলেন, কেউই রাজনীতির বাইরের লোক নয়। সবারই রাজনৈতিক আদর্শ আছে। নিরপেক্ষ কাকে বলবেন। এই দেশের মানুষকে দিয়েই তো কমিশন গঠন করতে হবে। চাঁদ থেকে বা মঙ্গল গ্রহ থেকে তো আর মানুষ নিয়ে আসবেন না?

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। হাজার বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একটি স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছি। এই সাফল্য বাঙালির সবচেয়ে গৌরবদীপ্ত অর্জন। এই অর্জনে মূল ভূমিকা রেখেছে ছাত্রলীগ। বঙ্গবন্ধু বলতেন তার হাতে গড়া ছাত্রলীগ বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

‘এই সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশ এক ক্লান্তিলগ্নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করব। সেই নতুন নেতৃত্ব দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবেন।’

‘আমি মনে করি জাতি এখনো ঐক্যবদ্ধ, দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। এই ধারাকে আমরা অব্যাহত রাখতে চাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাবে। কেউ এটাকে প্রতিরোধ করতে পারবে না। মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এটি আমরা অব্যাহত রাখব।

টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে ওই সম্মেলনে বক্তব্য দেন তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, ছানোয়ার হোসেন এমপি, সোহেল হাজারী এমপি, আতাউর রহমান খান এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, খন্দকার মমতা হেনা লাভলী এমপি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য দেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close