reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১

মেয়রের উনয়ন ভাবনা

জলাবদ্ধতা নিরসনই লক্ষ্য

রাজনৈতিক নেতা নই, আমি জনগণের সেবক হতে চাই। পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে চাই সবার সার্বিক সহযোগিতা। দল-মত নির্বিশেষে পৌরসভাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যেখানে থাকবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। নগরের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা আন্তরিকভাবে বাস্তবায়ন করব। এজন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিদিনের সংবাদকে এমনটাই জানালেন সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি শেখ জহুরুল হক।

নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে ১৮৬৯ সালে সাতক্ষীরা পৌরসভার যাত্রা হলেও সেটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয় ১৯৯৮ সালে। ৩১ দশমিক ১০ বর্গকিলোমিটারের এই পৌরসভায় ১ লাখ ৫৫ হাজার মানুষের বাস। চলতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন তাজকিন আহমেদ চিশতি। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে এই পৌরসভার উত্তরে লাবসা, দক্ষিণে দহখুলা, পূর্বে ব্রক্ষ্মরাজপুর ও পশ্চিমে খানপুর ইউনিয়ন।

মেয়র তাজকিন আহমেদ বলেন, ‘১৪ মার্চ আমি নতুন করে দায়িত্ব পালন শুরু করি। এবার বড় চ্যালেঞ্জ দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন করার। এজন্য জার্মান সরকার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যা আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হবে। এ ছাড়া গত মেয়াদে পৌরসভাকে উন্নত, আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নেওয়া পদক্ষেপগুলোও এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু আমাকে অনেক সহযোগিতা করে আসছেন।’

পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘চলতি বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর করোনাভাইরাস প্রকট আকার ধারণ করে। সেসময় নগদ টাকা, চিকিৎসাসেবা, করোনা প্রতিরোধী সামগ্রী, খাদ্য সহায়তার পেছনে প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। করোনার কারণে সরকারি তেমন বরাদ্দ না এলেও পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন কাজগুলো চলমান রয়েছে।’

শহরের প্রধান সমস্যা বৃষ্টির দিনে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা-এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘আমার আগে যারা মেয়র ছিলেন, তারা কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই যত্রতত্র কাজ করেছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। যে কারণে পৌর এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। এজন্য ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শহরের একমাত্র প্রাণ সাহের খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। এখন নাব্য ফেরানোর কাজ চলছে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা পুরো শহর সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য চুরি-ছিনতাই রোধসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। প্রতি সপ্তাহের ছয় দিন মশা নিধনের জন্য শহরের অলিগলিতে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ১১০টি ডাস্টবিন, ৩৩৭টি কালভার্টসহ ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি কসাইখানা, ১০টি গণশৌচাগার, একটি ডাম্পিং স্টেশন করা হয়েছে। নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ ও পৌর অডিটোরিয়াম তৈরি করা হয়েছে।’

রাস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ২১০ কিলোমিটার পাকা, ১৪ কিলোমিটার কাঁচা ও ৫৩ কিলোমিটার ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১১ কিলোমিটার আরসিসি, ৪৯ কিলোমিটার ইটের গাঁথুনি ও ১১৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। পাঁচটি কাঁচাবাজার, তিনটি পৌর মার্কেট ও পৌরসভার নিজস্ব ১১২টি দোকানঘর রয়েছে। এ ছাড়া মসজিদ, মন্দির, গির্জা, ঈদগাহ, কবরস্থানসহ শ্মশানঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। নিজস্ব সম্পত্তি রয়েছে, আবাসিক ৪ দশমিক ৭৫ একর, বাণিজ্যিক ৮ একর, রাস্তা ২৫০ একর, ডাম্পিং গ্রাউন্ড ৯ দশমিক ৮৪ একর, সংরক্ষিত পৌরপুকুর ৬ দশমিক ১০ একর।

পানি সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ১১১ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে ৮৫৬০ জন গ্রাহককে সুপিয় পানি পান করানো হচ্ছে। ১৩টি উৎপাদক নলকূপ, দুটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, দুটি ওভারহেড ট্যাংক, ১৬২৩টি অগভীর হস্তচালিত নলকূপ, ১১৮টি গভীর হস্তচালিত নলকূপ নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১২৮টি স্ট্রিট হাইড্রেন্ট ও সুইপার কলোনি করা হয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মরণে ১৭টি শহীদ মিনারও নির্মাণ করা হয়েছে।

কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে আরো এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক কাজ করছে পৌরসভা।

সবশেষে পৌরবাসীর কল্যাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close