reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ৩০ নভেম্বর, ২০২১

মেয়রের উন্নয়ন ভাবনা

নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করব

অচিরেই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মডেল পৌরসভা গড়ব। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নাগরিকসেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। যমুনার পাড়ে গড়ে ওঠা পৌরসভাকে আধুনিক ও ডিজিটাল হিসেবে গড়ে তুলতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমি বিশ্বাস করি, নাগরিকসেবা জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত স্বচ্ছ উপায়ে পৌঁছানোর মাধ্যমেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। পৌর নাগরিকদের উন্নতসেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য- বলছিলেন সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সৈয়দ আবদুর রউফ মুক্তা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি গাজী মো. শাহাদত হোসেন ফিরোজী।

যমুনা, ইছামতী, ফুলজোড় হুড়াসাগরের কোলঘেঁষা সিরাজগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৯ সালের ১ এপ্রিল। অতীতে এই শহরটির সঙ্গে ভারতবর্ষে যোগাযোগমাধ্যম ছিল নৌ এবং রেলপথ। প্রথম পর্যায়ে নৌপথে গোয়ালন্দ থেকে এবং পরে রেলপথে কলকাতার সঙ্গে গড়ে ওঠে সরাসরি সংযোগ। যোগাযোগের কারণেই এ শহর খ্যাত হয় গেট অব ইস্ট বেঙ্গল হিসেবে। প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যর কারণে দূরদূরান্তের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের আগমন ঘটে এই শহরে। ২৮.৩৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার লোকসংখ্যা ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬৩০ জন (২০১১)। এটি প্রথম শ্রেণির। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক থেকে যেমন সমৃদ্ধ তেমনি উন্নয়ন সংস্কৃতির দিক থেকেও অগ্রসরমান। অনেক দেশ বরেণ্য রাজনীতিবীদ কবি ও সাহিত্যিকের জন্ম এই পৌর শহরে।

মেয়র বলেন, শহরের মাঝ দিয়ে বহমান কাটাখারি খাল পুনঃসংস্কার এবং উভয়পাশে ফুটপাত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। উন্নত বাতি দিয়ে সড়ক আলোকিত করাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। দ্রুত নাগরিক সেবা প্রদানে লক্ষ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনবিষয়ক শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে পৌরসভা উন্নয়নে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও উন্নয়ন করা হচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ির কর মওকুফ করা হয়েছে। তাদের সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়াও শহরের ব্যস্ততম কাঁচামালের আড়তের পাশে অত্যাধুনিক কিচেন মার্কেট তৈরি, জনগণের ভোগান্তি দূরীকরণে একাধিক গণশৌচাগার, সিরাজগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পাশে লেডিস মার্কেট করা হয়েছে। রাসেল স্মৃতি পৌর শিশু পার্কের ব্যাপক উন্নয়ন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালও নির্মাণ করা হয়েছে।

শহরের যানজটের বিষয়ে মেয়র প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, স্থানীয় বাজার স্টেশন সংলগ্ন রাস্তাসহ কয়েকটি রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে। এছাড়া শহরের বাহিরগোলা রাস্তা প্রশস্তকরণ ও পুনর্নির্মাণের কাজও চলছে। এ কাজ শেষ হলেই শহর যানজটমুক্ত হবে। অবকাঠানো উন্নয়ন প্রসঙ্গে মেয়র জানান, পৌরসভায় সব রাস্তা পাকা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বাউন্ডারি ওয়াল ও আধুনিক গেট, পৌর মালশাপাড়া ও রহমতগঞ্জ কবরস্থানে দৃষ্টিনন্দন দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। শহীদ মিনারের সংস্কার, এম এ মতিন বাস টার্মিনাল আধুনিকীকরণ, বড় বাজার উন্নয়ন, পৌর ভাসানী মিলনায়তন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এছাড়া পৌর ভবন সম্প্রসারণ, আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণ, যানবাহনের শেড নির্মাণ, আধুনিক পৌর নিউ সুপার মার্কেট নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে। ইলিয়ট ব্রিজ (বড়পুল) সংলগ্ন পৌর গার্ডেন নির্মাণ করা হয়েছে। পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহেরও কাজ করা হয়েছে।

পৌর মেয়র সৈয়দ আবদুর রউফ মুক্তা আরো বলেন, রাষ্ট্রের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে পৌরসভার উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার এবং তাদের নিরাপদ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। আমি মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গি নির্মূলে আমি একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে চাই। এজন্য চাই সবার সহযোগিতা।

আগামীকাল পড়ুন

হারাগাছ পৌর মেয়রের কথা

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close