রাজশাহী ব্যুরো

  ২৭ নভেম্বর, ২০২১

মেয়র আব্বাসের গ্রেপ্তার দাবি ১২ কাউন্সিলরের

আ.লীগ থেকে অব্যাহতি

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভা ফান্ডে রাজস্ব আদায় করা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার হদিস নেই বলে জানিয়েছেন ওই পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান। তিনি মেয়র আব্বাসকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে বলেন, তার আগ্রাসন থেকে কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুক্তি চান। কাউন্সিলর মঞ্জুর আরো জানিয়েছেন, আব্বাস আলীকে মেয়র পদ থেকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন কাটাখালী পৌরসভার ১২ কাউন্সিলর। একই সঙ্গে দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। গতকাল শুক্রবার কাটাখালী পৌর ভবনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্বকালে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেছেন কাউন্সিলর মঞ্জুর। প্রতিবাদ সভায় মেয়র আব্বাস আলীকে অপসারণে অনাস্থা প্রস্তাবের রেজুলেশন সাংবাদিকদের পড়ে শোনান কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান।

মঞ্জুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলরের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মেয়রকে অপসারণে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়। যেটি বৃহস্পতিবার রাতেই রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিলের সরকারি বাংলোতে গিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পৌর ফান্ডের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা গায়েব হওয়ার বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে মঞ্জুর রহমান বলেন, করোনাকালীন অনুদান দেওয়ার জন্য কাটাখালী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা উঠিয়েছিলেন মেয়র আব্বাস। কিন্তু সে টাকাও কাউকে দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। শুধু তা-ই নয়, মেয়র আব্বাস করোনাকালে চা ব্যবসায়ীদের অনুদান দেওয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা পৌরসভার ফান্ড থেকে নিয়েছেন। কিন্তু কোনো চায়ের দোকানদার এই অনুদান পেয়েছেন কি না তা উপস্থিত কোনো কাউন্সিলর বলতে পারবেন না।

কাউন্সিলর মঞ্জুর আরো বলেন, প্রতি মাসে মেয়র আব্বাসের অবৈধ আয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। এটি তিনি গর্ব করে বলে থাকেন। সম্প্রতি তিনি গণমাধ্যমকর্মীদেরও এ কথা বলেছেন; যা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবাদ সভায় ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মজিদ বলেন, পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩৬ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। ফান্ডে টাকা থাকার পরও মেয়র আব্বাস এই বেতন-ভাতা দেননি। তিনি বলেন, মেয়র আব্বাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোর করে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে থাকেন। কেউ স্বাক্ষর না করলে তাকে চাকরিচ্যুতসহ নানাভাবে হুমকি দেন। এ ছাড়া তার অন্যায় কাজের কোনো প্রতিবাদ করলে কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতেন মেয়র আব্বাস।

তিনি আরো বলেন, আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে নগর অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ মেয়র নিজে করতেন। আত্মীয়-স্বজনদের নামে হাট-ঘাট ও যানবাহনের টোল আদায়ের ইজারা নিজে নিয়েছেন। এসব টোল আদায়ের নামে নিজের লোকজন দিয়ে চাঁদাবাজি করে। এসব নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে হত্যার হুমকি দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতেন মেয়র আব্বাস।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা মেয়র আব্বাসের শাস্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল শেষে কুশপুত্তল দাহ করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া রাজশাহীতে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে গণধোলাই দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ।

মহানগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এসে শেষ করে। এরপর সেখানে পৌর মেয়র আব্বাস আলীর কুশপুত্তল দাহ করা হয়।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি ও অবমাননাকর মন্তব্য করায় কাটাখালী পৌর মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল সরকার। তিনি বলেন, প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। এ সময় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close