reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১২ অক্টোবর, ২০২১

ময়রের উন্নয়ন ভাবনা

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে চাই

দেশের অন্যতম প্রাচীন শহর কুমিল্লা। ২০১১ সালের ১০ জুলাই মহানগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর বেড়ে যায় এর গুরুত্ব। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আবাসিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাবনার সঙ্গে সমস্যাও দেখা দিতে থাকে। নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলেন সেসব সমস্যা দূর করে সুন্দর, আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগর উপহার দেওয়ার। কথা রেখেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। নগরীকে ঢেলে সাজাতে করে যাচ্ছেন অক্লান্ত পরিশ্রম। এতে দূর হয়েছে নগরের অনেক সমস্যা। তার লক্ষ্য আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার। এই লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদিনের সংবাদের সঙ্গে কথা বলেছেন মেয়র সাক্কু। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কুমিল্লা প্রতিনিধি মারুফ আহমেদ।

মেয়র বলেন, আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের। রাস্তাঘাট নির্মাণ ও খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। এছাড়া নতুন করে সংস্কার করেছি সড়ক, জলাবদ্ধতা নিরসনে তৈরি করেছি বক্স ড্রেন, নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট নিরসনে নির্মিত হয়েছে শাসনগাছা ফ্লাইওভার, নগরবাসীর হাঁটার জন্য দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত। কুমিল্লা টাউন হলের সামনের সড়কের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করতেন হকাররা। বিভিন্ন সময়ে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে আবারও তা দখল হয়ে যেত। এতে পথচারীদের পথ চলতে দুর্ভোগে পড়তে হতো। এ অবস্থায় টাউন হলের সীমানা দেয়ালের লোহার গ্রিলে প্লাস্টিকের টবে ফুলের গাছ স্থাপন করা হয়। এতে পুরো এলাকা দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগানে পরিণত হয়েছে। টবে হলুদ আর সবুজ রং করা হয়েছে। গ্রিলে সবুজ আর দেওয়ালে লাল নতুন রঙে বর্ণিল হয়ে উঠেছে চারপাশ। এছাড়া রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, হাট-বাজার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ডাস্টবিন নির্মাণ, দ্রুত আবর্জনা পরিষ্কার- সবকিছুতেই পরিকল্পনার আধুনিক ছোঁয়া থাকায় নগরবাসীর জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে। পরিকল্পনা রয়েছে ময়লা-আবর্জনার জন্য স্থায়ী বহুমুখী পরিকল্পনা, লোডশেডিংমুক্ত নগর গড়তে সোলার সিস্টেম ব্যবস্থা বাস্তবায়নের।

মেয়র মনিরুল হক সাক্কু প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ২০১১ সালের ১০ জুলাই জন্ম নেওয়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আয়তন ৫৩.০৪ বর্গকিলোমিটার। ২৭ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই নগরীর লোকসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। সড়ক রয়েছে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। পানি নিষ্কাশনের জন্য রয়েছে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার ড্রেন। নাগরিকদের সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ১৪৬ কিলোমিটার লাইন রয়েছে। নগরীর ব্যস্ততম স্থানে রয়েছে পাবলিক টয়লেট, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় আছে ডাস্টবিন। প্রতিদিনই ৩৬টি গাড়িতে করে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। নগরবাসীর বিনোদনের জন্য ধর্মসাগরপাড়ে দৃষ্টিনন্দন পার্ক রয়েছে। সেখানেও আধুনিকায়নের ছোঁয়া। একইভাবে নগরীর নানুয়া দীঘি, রানীর দীঘি, তালপুকুরের চারপাশে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে।

মেয়র বলেন, সন্ধ্যার পর নগরীর রাস্তাঘাটের পাশাপাশি কবরস্থান, শ্মশানগুলোতেও আলো নিশ্চিতে পিডিবির পাশাপাশি সোলার সিস্টেম চালু রয়েছে। সড়কের পাশে বাহারি ফুল, ফল গাছ রোপণ, রোড ডিভাইডার, ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্লাস্টিকের ভাসমান ডাস্টবিন স্থাপন, নগরীর প্রধান ব্যস্ততম এলাকায় এলএডি সাইড স্থাপন, ভাসমান হকারদের নিউমার্কেট এলাকায় পুনর্বাসন, টাউনহলের সীমানা প্রাচীরের সৌন্দর্যবর্ধনে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন জাতের ফুল গাছ। এককালের ব্যাংক ও ট্যাংকের নগরী খ্যাত কুমিল্লার পুকুর ভরাটকারীদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা। নগরবাসীর স্বাস্থসেবায় গড়ে তোলা হয়েছে একটি মাতৃসদন, ছয়টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৭২টি স্যাটেলাইট ক্লিনিক। করোনার প্রভাবে সারা পৃথিবী যখর স্থবির তখন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের সহযোগিতায় থেমে ছিল না নগরীর উন্নয়নমূলক কাজ।

মেয়র সাক্কু বলেন, আমার উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞ চলতেই থাকবে। একটি আধুনিক নগর ভবন তৈরি, সিটি করপোরেশনের সেবকদের জন্য কলোনি নির্মাণ, অবহেলিত ও প্রায় নিমজ্জিত হয়ে পড়া কুমিল্লা পুরোনো গোমতী নদীকে পুনরুদ্ধার করে লেকে রূপান্তর করে দৃষ্টিনন্দন রূপ দেওয়া, নগরীর তিনটি বাস টার্মিনালকে আধুনিকায়ন করা, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ফুটপাত সংস্কার ও নির্মাণ, ডিসি পুকুরকে নান্দনিক করে বিনোদনের ক্ষেত্র হিসেবে রূপ দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজ রয়েছে হাতে। আমি মানুষ, ফেরেশতা না, আমার কাজে ভুল হতেই পারে, আমার এ ভুল ক্ষমা করে নগরবাসী আরো কাজ করার উৎসাহ দেবে বলে বিশ্বাস আছে। আমি যেন আগামীতেও নগরবাসীর জন্য কাজ করে যেতে পারি সেই দোয়া চাই।

 

আগামীকাল পড়ুন

খুলনা সিটি মেয়রের কথা

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close