reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১১ অক্টোবর, ২০২১

ময়রের উন্নয়ন ভাবনা

দৃষ্টি আমার উন্নয়নে

পুরাতন নগরীর প্রতিটি সড়ক এখন পিচঢালা। অধিকাংশ সড়কবাতি উবে দিয়েছে অন্ধকারকে- যেন রাতেই দেখা দিনের আলোর। ‘ময়লা-আবর্জনায় ঠাসা ময়মনসিংহ’ তকমাও নেই। জলাবদ্ধতাও দূর হয়েছে। সব মিলিয়ে আধুনিক সিটি গড়তে যা করার তাই করছি আন্তরিকতার সঙ্গে, আমার দৃষ্টি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর উন্নয়নে- প্রতিদিনের সংবাদকে এমন আরো পরিকল্পনার কথা শুনিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ময়মনসিংহ প্রতিনিধি উবায়দুল হক।

ময়মনসিংহ দেশের অষ্টম বিভাগীয় শহর ও কনিষ্ঠতম সিটি করপোরেশন। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরজুড়ে গড়ে উঠেছে এই শহর। এই শহরটি শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত। এছাড়া শহরজুড়ে আছে মসজিদ, মন্দির, গির্জা।

যাতায়াত ব্যবস্থা : ময়মনসিংহ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে রয়েছে ট্রেন যোগাযোগ। রয়েছে আন্তঃনগর এবং মেইল ট্রেন উভয়ই। এছাড়া সড়ক ও জলপথেও যাতায়াত করা যায় ময়মনসিংহে।

খাগডহর বাজার, নতুন বাজার, সানকিপাড়া বাজার, স্বদেশি বাজার, বড়বাজার, ছোটবাজার, মেছুয়া বাজার, কাঁচিঝুলি বাজার রয়েছে ময়মনসিংহে। এছাড়া সি কে ঘোষ রোড এবং মিন্টু কলেজ মোড়েও রয়েছে বাজার। এগুলো অনেক পুরোনো। স্বদেশি বাজারের নামকরণ হয়েছে স্বদেশি আন্দোলনের সময়। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর এক দশকে নগরীর ভবনগুলো ছিল শহুরে অবকাঠামোর, যা নতুন নগরীতে এখন শোভা মেলে। তৎকালীন ময়মনসিংহ পৌরসভার উন্নয়ন ছিল অনেকটা কাগুজে। তবে এখন বদলে যাচ্ছে। উন্নয়নের ছোঁয়া দৃশ্যমান সিটি মেয়র টিটুর হাত ধরে। পুরাতন নগরীর ২১টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি নতুন যুক্ত হওয়া ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে এখন বিশেষ নজরে। এরই মধ্যে একনেকে বরাদ্দ হওয়া ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যয় হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নগরীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সেসব এলাকায়। শুরু হয়েছে ড্রেন ও রাস্তার কাজ। বাকি কাজও প্রক্রিয়াধীন।

নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, নগরীকে ঢেলে সাজাতে করা হয়েছে মাস্টারপ্ল্যান। ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। মাস্টারপ্ল্যানে রয়েছে, নগরীর ব্যস্ততম কেন্দ্রবিন্দু থেকে রেললাইন সরিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড অথবা ওভারহেড রেললাইন স্থাপন, একাধিক ফ্লাইওভার, ওভারব্রিজ ও চারলেন সড়ক নির্মাণ, ময়লা-আবর্জনার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে নিজস্ব চাহিদার বিদ্যুৎ জেনারেশন, নগরবাসীর বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ২০তলা আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ। আরো আছে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, বিনোদন ও সংস্কৃতিবান্ধব ছায়াশীতল পরিবেশের উন্নয়ন।

মেয়র টিটু বলেন, শপথ গ্রহণের পর দেড় বছর ছিল করোনা মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ। সেটি মোকাবিলার পাশাপাশি উন্নয়নেও দৃষ্টি ছিল। নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন সংস্কারের পাশাপাশি নতুন আরসিসি ড্রেন, আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া, নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খাল খননের পাশাপাশি যথাযথ ব্যবস্থাপনায় পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নগরের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশ্বস্ত করা হয়েছে। নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন সড়ক। নাগরিকদের সুপেয় পানির জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি গভীর নলকূপ। পুরোনো লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে পাইপলাইন।

বর্তমান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে মেয়র টিটু বলেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ। নবগঠিত এ সিটি করপোরেশনকে বিলুপ্ত পৌরসভার জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বর্জ্যকে চোখের আড়ালে রাখতে ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং নগরীর প্রধান সড়কে চালু করা হয়েছে রাত্রিকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। দিনে যেন কেউ আবর্জনা ফেলে শহরকে নোংরা না করেন সেজন্য ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে সিসি টিভি ক্যামেরা। ফুটেজ দেখে যারা দিনে আবর্জনা ফেলেছেন তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া সিটির প্রধান ডাম্পিং স্টেশনের পরিধি বৃদ্ধি, ডাম্পিং স্টেশনের অভ্যন্তরে বর্জ্য পরিবহনের সড়ক নির্মাণ এবং ডাম্পিং স্টেশনের সীমানা তৈরির মাধ্যমে চিরচেনা আবর্জনা ও দুর্গন্ধময় অবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে দেওয়া হয়েছে নান্দনিক রূপ। ক্ষতিকর ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ধ্বংসে নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা। প্রতিদিন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বর্জ্য কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যম সংগ্রহ করে তা আকুয়া প্লান্টে নিয়ে ডাম্পিং করা হয়। মানব বর্জ্য রূপান্তর করা হচ্ছে জৈব সারে। বছরে উৎপাদন হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টন জৈব সার। এখন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

মেয়র বলেন, মশক নিধন কার্যক্রমে ২০১৯ ও ২০২০ সালে সিটি এলাকায় কোনো ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি। নিয়মিত ক্রাশ প্রোগ্রাম, টেকনিক্যাল কমিটি গঠন, হটস্পট চিহ্নিত করে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া, ড্রেন, খাল, জলাশয়ে ব্যাঙ ও মাছ অবমুক্তকরণের মাধ্যমে জৈবিক পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সিটি করপোরেশনের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেবার ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। সার্টিফিকেট প্রদান, পানির বিল, প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট, ট্যাক্স এখন নাগরিকরা ঘরে বসে অনলাইনেই করতে পারছেন।

সিটি এলাকাকে আলোকিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। স্থাপন করা হয়েছে ২ হাজার ২৫টি আধুনিক এলইডি লাইট। এছাড়া, নগরকে আলোকিত করতে আরো ৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দিকনির্দেশনায় শিগগিরই মডেল নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে এমন আশা করে মেয়র বলেন, ২ বছরের মধ্যে প্রায় দেড় বছর কোভিড পরিস্থিতি অতিক্রান্ত করায় এ সময়টাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এখন কোভিডের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আশা করছি কাক্সিক্ষত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবো।

 

আগামীকাল পড়ুন

কুমিল্লা সিটি মেয়রের কথা

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close