reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১০ অক্টোবর, ২০২১

ধামরাইকে আরো আধুনিক করতে চাই

জনগণ আমাকে অনেক আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। তাই প্রতিটি নাগরিকের সুযোগ-সুবিধা ও তাদের দাবি পূরণের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। সুধী সমাবেশ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কল্যাণমূলক ভবিষ্যৎ চিন্তাচেতনা পৌরবাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই। তাদের সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক ও উন্নয়নশীল পৌরসভা গড়তে চাই- প্রতিদিনের সংবাদকে এভাবেই উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা শুনিয়েছেন ধামরাই পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির মোল্লা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ধামরাই প্রতিনিধি মো. আবদুর রউফ।

ঢাকার অদূরে ধামরাই পৌর শহরের আয়তন ৬ দশমিক ৯৮ বর্গকিলোমিটার। পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। প্রথম নির্বাচন হয় ২০০৪ সালে। জনসংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯০। পৌর শহরের ২০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে আরসিসি ৯ কিলোমিটার রাস্তা, এইচবিবি ১ কিলোমিটার, বিএফএস ৭ কিলোমিটার, আরসিসি বক্স কালভার্ট করা হয়েছে তিনটি, পৌরসভার ৯ কিলোমিটার পাকা ড্রেন করা হয়েছে। বর্তমানে কাঁচা রাস্তা আছে ১৫ কিলোমিটার। এই পৌরসভায় দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ রথযাত্রার মেলা হয়।

পৌরসভার সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র গোলাম কবির বলেন, প্রধান সমস্যা হলো ময়লা-আবর্জনা। কারণ, পৌর শহরে বাড়িঘর বেড়ে যাওয়ায় ময়লা-আবর্জনাও বেড়েছে। এখন ময়লা রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন। প্রতিদিন প্রায় ২০ ট্রাক ময়লা জমা হয়, যা অপসারণ করা বড় সমস্যা। কারণ, ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং করার জন্য পৌরশহরে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তবে আইনত এলাকায় একটি প্রকল্পের কাজ চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এটি হলে পৌর শহরের মানুষ সুফল পাবে।

পৌর শহরের শিশুপার্কের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ধামরাই পৌরসভায় একটি শিশুপার্কের প্রয়োজন। তবে ৫ বছরে তেমন বরাদ্দ ছিল না। এবার আমি পার্কের জন্য প্রস্তাব দিয়েছি; আশা করি শিগগিরই পৌরবাসী একটি নান্দনিক শিশুপার্ক পাবে।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। প্রথমবার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভা থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করে পৌরবাসীর মন জয় করেছি। মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রেখেছি। অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করিনি। তাছাড়া পৌরসভাকে সবসময় দুর্নীতি আর অনিয়ম থেকে দূরে রেখেছিলাম বলেই পৌরবাসী দ্বিতীয়বারের মতো আমাকে নগরপিতার আসনে বসিয়েছেন। নগরবাসীর সে আস্থা ধরে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছি।

মেয়র গোলাম কবির মোল্লা বলেন, আমি ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি মেয়র পদে দায়িত্ব নিয়েই দেখি পৌরসভার মাথায় ঋণের বোঝা। এছাড়া পৌরবাসীও ছিল নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বেশির ভাগ রাস্তাঘাটের অবস্থা ছিল বেহাল। সবসময় পানি জমে থাকত। কারণ, তখন ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো ছিল না। সে-ই পৌরসভাকে ৫ বছরে একটি অত্যাধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে দিন-রাত কাজ করেছি। পৌরবাসীর সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ বসানোর কাজ চলছে।

মেয়র বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন ধরনের ভাতা সঠিকভাবে বিতরণ করার লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য লোকদের নিয়ে সেগুলো সঠিকভাবে বিতরণ করার চেষ্টা করছি। পৌরসভায় বর্তমানে বয়স্ক ভাতাভোগী রয়েছেন ৫২০ জন, বিধবা ভাতাভোগী ৩৩২ জন, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ২২০ জন, গর্ভকালীন ভাতাভোগী ৪৫ জন। এছাড়া ৪ হাজার ৬২১ জনকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেলাই মেশিন দেওয়াসহ তাদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাচ্ছি।

 

আগামীকাল পড়ুন

ময়মনসিংহ সিটি মেয়রের কথা

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close