নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

পরিকল্পনা ছিল বিরাট অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া

ভিওআইপি চক্রের ৪ সদস্য আটক

রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় থেকে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় জড়িত একটি চক্রের চার সদস্যকে আন্তর্জাতিক কলিং কার্ডসহ আটক করা হয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১০ ও বিটিআরসি। এই ব্যক্তিরা ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পরিকল্পনা এঁটেছিল।

র‍্যাব জানায়, চক্রের সদস্যরা আট বছর ধরে অবৈধভাবে ভিওআইপি কলের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। সর্বশেষ চক্রটি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বড় পরিকল্পনা নিয়েছিল। চক্রটির প্রিন্টিং প্রেসে যে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক কলিং কার্ড পাওয়া গেছে, সেগুলো ব্যবহার হলে সরকার প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকার মতো রাজস্ব হারাত।

আটকরা হলো মো. আমির হামজা (৩৩), মো. আলমগীর হোসেন (৪৫), মো. শামীম মিয়া (২৯) ও মো. সাগর মিয়া (২৭)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভিওআইপি ব্যবসায় ব্যবহৃত দুটি সিপিইউ, দুটি মনিটর, একটি মাউস, একটি কি-বোর্ড দুটি প্রিন্টার, দুটি জেনার, একটি পেপার কাটার মেশিন, একটি ডিজিটাল ওজন মেশিন ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাহফুজুর রহমান এ তথ্য জানায়। মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় র‍্যাব-১০ ও বিটিআরসির সমন্বয়ে যৌথ অভিযানে রাজধানীর ফকিরাপুল গরমপানির গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চক্রের চার সদস্যকে আন্তর্জাতিক কলিং কার্ডসহ গ্রেপ্তর করা হয়েছে।

অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে লাইসেন্স নেওয়া ছাড়াই অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তাদের প্রিন্টিং প্রেসে যে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক কলিং কার্ড পাওয়া গেছে, তা যদি ব্যবহার হতো, তবে বাংলাদেশ সরকার আনুমানিক ১৯ কোটি ৪৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫০ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতো।

র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক বলেন, এই অসাধু ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা প্রচলিত সফটওয়্যারভিত্তিক সুইচের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক কল রাউট করে ও স্থাপনা পরিচালনা করার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করতেন। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব ও চার্জ ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে চক্রটি যান্ত্রিক, ভার্চুয়াল এবং সফটওয়্যারভিত্তিক কৌশল অবলম্বন করে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রিচার্জ সেবা প্রদান করত।

আটকরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত ডায়ালার অ্যাপ কলের বাংলাদেশে অবৈধভাবে রাউট করত ও ওই অ্যাপে রিচার্জের জন্য বিভিন্ন অঙ্কের কলিং কার্ড বিক্রি করতেন। এ ছাড়া তারা অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রিচার্জ সেবা প্রদান করে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতেন।

তিনি আরো বলেন, আটকরা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘ সাত থেকে আট বছর ধরে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভিওআইপি ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রিচার্জের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। প্রিন্টিং প্রেসে ভয়েস পাকিস্তান, পাকিস্তান ভয়েস, কাতার এক্সপ্রেস, এশিয়ান টেলিকম, এনএস এক্সপ্রেস, প্রবাসী কার্ড, স্বপন টেল, সুপার কার্ড ও কাতার টুসহ ১০৭টি কলিং কার্ড ক্লায়েন্টের দেড় লাখের বেশি কুপন পাওয়া গেছে।

একই সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইনস্পেকশন বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর এস এম গোলাম সারওয়ার বলেন, অবৈধ ভিওআইপির চক্রটি বিটিআরসির চোখ ফাঁকি দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ টেলিযোগাযোগ সেবা দিয়ে যাচ্ছিল। অনেক সময় বিটিআরসির গ্যাপের কারণেও এ অবৈধ ভিওআইপিরা সাময়িক ব্যবসা করে। তবে একটা সময়ে তারা ধরা পড়ে। বিটিআরসির টেকনোলজি আরো আপডেট ও লজিক পরিবর্তন করতে হবে। বিটিআরসির ব্যর্থতা এবং এখানে আমাদের কোনো কর্মকর্তা জড়িত কি না সেই বিষয়টি সামনে আসছে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close