নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সবাইকে দিয়েও উদ্বৃত্ত কোটি টিকা

সরকারের লক্ষ্য দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনার। এরই মধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে কেনা ও উপহার মিলিয়ে ৪ কোটি ৩ লাখ ৬০০ টিকা এসেছে। চীনের সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের প্রায় ১০ কোটি করোনার টিকা সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এসব টিকা অক্টোবর থেকে দেশে আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া চলতি মাসে আরো ৬০ লাখ টিকা আসার কথা রয়েছে। আর কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ১০ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনা হলে সব মিলিয়ে একই উৎস থেকে আসবে সাড়ে ১৬ কোটি টিকা। ফলে সব মিলিয়ে যে টিকা প্রয়োজন, তার চেয়ে বাড়তি এক কোটি টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে দেশের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশকে টিকা দিতে হলে ১৩ কোটি মানুষের জন্য দুই ডোজ করে ২৬ কোটি টিকা লাগবে। এরমধ্যে কোভ্যাক্সের কাছ থেকে কেনা ও বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ১৬ কোটি টিকা। অবশিষ্ট সাড়ে ৯ কোটি টিকার মধ্যে চীনের সিনোফার্ম থেকে সাড়ে সাত কোটি টিকা কেনার চুক্তি হয়েছে। আর চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা তিন কোটি টিকার মধ্যে বাংলাদেশের পাওনা রয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ টিকা। এসব টিকার বাইরে ভারত ও চীনের কাছ থেকেও উপহার হিসেবে ৭০ লাখ টিকা পেয়েছে।

টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সায়েদুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কোভ্যাক্সকে সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার একধরনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে টিকা কিনবে, তা স্বল্প মূল্যে পাওয়া যাবে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য কোভ্যাক্সের ২০ শতাংশ বরাদ্দ অনুযায়ী বাংলাদেশের ছয় কোটি টিকা বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। এরমধ্যে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ১ কোটি ২৫ লাখ টিকা পেয়েছে। চলতি মাসে আরো ৬০ লাখ টিকা আসার কথা রয়েছে। কোভ্যাক্স বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশকে বাণিজ্যিকভাবে টিকা কিনতে সমন্বয়কারীর ভূমিকাও পালন করে। এই বৈশ্বিক উদ্যোগের মাধ্যমে ১০ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনা হলে সব মিলিয়ে একই উৎস থেকে বাংলাদেশ সাড়ে ১৬ কোটি টিকা পাবে।

এ ছাড়া কোভ্যাক্স থেকে এ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের উপহারের টিকা পাওয়ার কথা। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে টিকা কেনার কথা ছিল। এখন সেই টিকা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে আগেভাগে কেনা হচ্ছে। এই টিকা অক্টোবর থেকে দেশে পৌঁছানো শুরু হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা বলেছেন, বছরের শেষ প্রান্তিক থেকে ১০ কোটির বেশি টিকা দেশে আসার কথা রয়েছে। এই টিকা হবে চীনের সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের।

প্রসঙ্গত শুরুতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি টিকার ওপর নির্ভর করেছিল সরকার। কিন্তু ভারতে করোনা সংক্রমণের মারাত্মক অবনতি ঘটায় টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির সরকার। এতে ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া বাংলাদেশের গণটিকাদান কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে টিকা সংগ্রহে নামে। এতে সফলও হয়।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close