ব্রেকিং নিউজ

যুক্তরাজ্যের সমীক্ষা

করোনায় অবসাদগ্রস্ত এক-চতুর্থাংশ স্বাস্থ্যকর্মী

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

করোনা মহামারির বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে যারা ফ্রন্টলাইনে রয়েছেন, সেই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের এক-চতুর্থাংশই ভুগছেন পিটিএসডি বা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে। মহামারি ভাইরাস নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের গবেষকরা। তারা বলছেন, দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে এই রোগের হাত থেকে এখনই মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। খবর দ্য ল্যানচেট ও ট্রিবিউন ইন্ডিয়ার।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় এক বছর হতে চলল। এ রোগ নিয়ে যেসব স্বাস্থ্যকর্মী একদম সামনে থেকে লড়ছেন, তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদের সব লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। যেসব স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাস আক্রান্তদের নিয়ে দিনরাত কাজ করেছেন, তাদের সাংঘাতিক মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

ইংল্যান্ড পূর্ব অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, করোনা ছড়িয়ে পড়ার এক বছর পরও স্বাস্থ্যকর্মীরা পিটিএসডির মতো মানসিক অসুখ, অবসাদ, উত্তেজনা ইত্যাদির শিকার হতে পারেন।

নরউইচ মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক রিচার্ড মেজার স্টেডম্যান বলেন, নার্স, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী বা হাসপাতালের সমস্ত কর্মীরা কোভিড-১৯-এর রোগীদের নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যস্ত আছেন। ফলে তাদের মধ্যে এক মানসিক অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে।

গবেষকরা দেখেছেন, যখন মহামারি চরমে পৌঁছেছে তখন ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী অসম্ভব মানসিক অবসাদ ও উত্তেজনায় ভুগেছেন।

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সোফি অ্যালান বলেন, দেখা গিয়েছে যখন স্বাস্থ্যকর্মীরা স চেয়ে বেশি অবসাদগ্রস্ত হয়েছেন, তখন অতিমারীর গ্রাফ চরমে পৌঁছেছিল। কিন্তু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার এক বছর পরও একই রকম অবসাদের চিহ্ন তাদের মধ্যে রয়ে গেছে, তা দূর হচ্ছে না।

গবেষকরা বলেন, কোভিড রোগীদের সারিয়ে তোলা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে যারা তাদের সারিয়ে তুলছেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটাও হেলাফেলা করার মতো বিষয় নয়। আশা করা যাচ্ছে, এই গবেষণার ফলে বিশ্বে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

"