ইজিবাইকের জন্য বন্ধুকে খুন : ঘাতক আটক

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

বগুড়া প্রতিনিধি

ইজিবাইক ছিনতাইয়ের জন্য বন্ধুকে হত্যা করে ধরা খেল খুনি। কৌশলে কোমলপানীয়ের মধ্যে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে খুন করে, পরে হত্যাকান্ডের ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে নিজেই ৯৯৯ ফোন করে ‘বন্ধু’র ইজিবাইক ছিনতাই হয়েছে বলে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘাতক রাব্বীকে (২২) গ্রেফতার করে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে বগুড়ার শেরপুরের সুঘাট ইউনিয়নের জোরগাছা এলাকায় ঘটেছে এই হত্যাকান্ড ঘটে। গ্রেফতাকৃত রাব্বির দেওয়া তথ্য মতে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুরে জোরগাছা এলাকার ধান খেতের ভেতর থেকে ইজিবাইক চালক মিনহাজ শেখের (২২) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

থানা পুলিশ জানায়, বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বিশ^হরিগাছা গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে রাব্বি একই গ্রামের তার বন্ধু মোজাদ্দারের ছেলে মিনহাজের ইজিবাইক নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকালে বেড়ানোর কথা বলে শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের আওলাকান্দি গ্রামে আসে। পথিমধ্যে এক দোকান থেকে কোমল পানীয় স্পিড কিনে তার মধ্যে ১০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বন্ধু মিনহাজকে খাওয়াই। এতে মিনহাজ অচেতন হয়ে পড়লে রাব্বি বন্ধু মিনহাজকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। পরে হত্যাকান্ডের ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে রাব্বি ৯৯৯ এ ফোন করে বলে যে, ছিনতাইকারীরা আমার বন্ধু মিনহাজকে খুন করে তার ইজিবাইক ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। আমি বাধা দিলে আমাকে চাকু মেরে ফেলে রেখে গেছে। ৯৯৯ থেকে তাকে থানায় গিয়ে জিডি করতে বললে রাব্বি থানায় যায়। পুলিশ রাব্বিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। তার এলোমেলো কথায় সন্দেহ হলে শেরপুর পুলিশ রাব্বিকে আটক করে। এক পর্যায়ে সে সত্য ঘটনা বলে দেয়।

শেরপুর সার্কেল অফিসের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার স্বীকারোক্তিমূলক তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফ ভূঞা (বিপিএম বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেরপুর সার্কেল মো. গাজিউর রহমান, জেলা ডিবি পুলিশের ইনচার্জ আসলাম হোসেন, শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেরপুর সার্কেল মো. গাজিউর রহমান বলেন, খুনি রাব্বির কোনো আয় রোজগার ছিল না। তাই সে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পনা করে তার বন্ধু মিনহাজের ইজিবাইক ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে তাকে সুঘাট এলাকায় নিয়ে এসে খুন করে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। গ্রেফতারকৃত রাব্বির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তবে গ্রেফতারকৃত রাব্বী এর আগেও হত্যাকান্ডের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে।

 

 

"