বীরের এ রক্তস্রোত...

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

“বীরের এ রক্ত স্রোতে, মাতার এ অশ্রুধারা/এর যত মূল্য সে কি ধরার ধুলায় হবে হারা?/স্বর্গ কি হবে না কেনা?/বিশ্বের ভা-ারী শুধিবে না এত ঋণ?/রাত্রির তপস্যা সে কি আনিবে না দিন?”। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কবিতাটি যাদের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার নোয়াগ্রাম গ্রামের আবদুল মান্নান যেন তাদেরই একজন।

১৯৬৯ সালের শেষের দিকে পুলিশে ভর্তি হন। ১৯৭০ সালের প্রথম দিকে সারদা পুলিশ ট্রেনিং কলেজে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তার বদলি হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার গুইমারা পুলিশ ইউনিটে। সেখানে চাকরি অবস্থায় মা-বাবার পছন্দে নিজ এলাকায় বিয়ে ঠিক হয়। ১৯৭১ সালের প্রথম দিকে আবদুল মান্নানের বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন আর বিয়ের তারিখ পিছিয়ে যায়। তত দিনে বেজে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের দামামা। বড় ভাই আবদুল বাতেন একজন সেনাসদস্য। তিনিও ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আর বাড়ি ফেরা হলো না মান্নানের। আর না হলো বিয়ে। তিনিও ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। চট্টগ্রাম ১নং সেক্টরের অধীন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন অকুতোভয় বীরযোদ্ধা আবদুল মান্নান।

সম্মুখযুদ্ধে আবদুল মান্নানের সাহসিকতার কোনো জুড়ি ছিল না। ১৯৭১ সালের ১৫ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম (বর্তমান চট্টগ্রাম) জেলার রাউজান থানার মদিনাঘাট নামক স্থানে পাক বাহিনীর সঙ্গে এক ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়ে যান। একপর্যায়ে আহত হন। আহতাবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য সহযোদ্ধারা রাউজানের ডাক্তার পরেশ বড়ুয়ার বাড়িতে নিয়ে যান। পরেশ বড়ুয়ার বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় এই অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান শহীদ হন। ডাক্তার পরেশ বড়ুয়ার বাড়িতেই তার মরদেহ দাফন করা হয়। (বীর আবদুল মান্নানের কবর আজও ডাক্তার পরেশ বড়ুয়ার বাড়িতে আছে)। এই জাতীয় বীরকে বাঙালি জাতি বীরবিক্রম উপাধি দিয়ে চিরদিন অমর করে রেখেছে। দেশ স্বাধীনের পর বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাতেন ফিরে এলেও শহীদ আবদুল মান্নান (বীরবিক্রম) আর ফেরেননি। শহীদ আবদুল মান্নানের সহযোদ্ধাদের কাছে তার পরিবারের সদস্যরা তার বীরত্বগাথা সম্পর্কে অবগত হন। ১৯৪৮ সালের ৪ মার্চ জন্ম নেওয়া এই বীরের জন্য দেশের মানুষ আজও গর্ব করে।

 

 

"