বিন্নার ফুলকিতে জীবন-জীবিকা

প্রকাশ | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

মৃণাল সরকার মিলু, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)

চলনবিলে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বর্তমান সময়ে কাজ না থাকায় আদিবাসী নারী-পুরুষ কৃষিশ্রমিকরা আগাম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেকে কাজ না থাকা এই সময়টায় বসে না থেকে মাঠ থেকে বিন্নার ফুলকি, খেজুরের পাতা সংগ্রহ করে ঝাড়ু ও খেজুরপাতার পাটি তৈরি করে আয়-রোজগার করছেন। এতেই এখন কোনো রকমে চলছে তাদের জীবন-জীবিকা।

জানা গেছে, চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া; পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও নাটোরের সিংড়া এলাকায় প্রায় ৪০-৪৫ হাজার আদিবাসী নারী-পুরুষ বসবাস করেন। তারা কঠোর পরিশ্রমী বটে। আর আদিবাসীদের এ অঞ্চলে শ্রমের চাহিদা থাকলেও এ সময়টায় কাজ না থাকায় তাদের সংসার চালাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। এদের মধ্যে উড়াঁও, মাহাতো, রাজবংশী, রবিদাস, কনকদাস, মুরারী, বসাক, সাঁওতালসহ অনেক সম্প্রদায়ের আদিবাসী নারী-পুরুষ মাঠেঘাটে ও বিভিন্ন বাড়িতে, ইটের ভাটায় কাজ করে থাকেন। করোনা অভিঘাত ও বর্ষা মৌসুমে বর্তমান সময়ে আদিবাসীদের এলাকায় তেমন কাজ নেই বললেই চলে। এ সময় মাঠে পাকা ধান কিংবা ইটভাটায় ইট তৈরির কাজ বা কৃষকের বাড়িতে শ্রমিকের কাজও থাকে না। এদিকে এ অঞ্চলের ৮০-৮৫ ভাগ আদিবাসী শ্রমজীবী। শ্রম বিক্রি করেই তাদের সংসার পরিচালনা করতে হয়। তাই তারা বোরো ও রোপা আমনের আবাদে কাজ করার জন্য আগাম ২০০-২৫০ টাকায় দিন হাজিরা চুক্তিতে শ্রম বিক্রি শুরু করেছেন। এ কথা জানিয়েছেন বোয়াইল গ্রামের আদিবাসী কৃষিশ্রমিক কমলেশ মাহাতো। আবার চলনবিলের আদিবাসী পল্লীতে বিশেষ করে নারীরা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলনবিলের মাঠঘাট থেকে বিন্নার ফুলকি, খেজুরপাতা সংগ্রহ করে বাড়িতে বয়স্কদের সহায়তায় আকর্ষণীয় নকশায় ঝাড়ু ও খেজুরপাতার পাটি তৈরি করছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা আদিবাসী ফোরামের সভাপতি সুশীল মাহাতো জানান, বছরের এই সমটায় কাজ না থাকায় শ্রমজীবী আদিবাসী পরিবারগুলো সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খায়। তাই তাদের মধ্যে কম দামে আগাম শ্রম বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ু, পাটি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেন। এখনো তাই করছেন।

 

 

"