করোনাভাইরাস

স্নায়ুযুদ্ধের সেই স্মৃতি জাগিয়ে রাশিয়ার টিকা স্পুটনিক-৫

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

স্নায়ুযুদ্ধের যুগে মহাকাশের লড়াইয়ে স্পুটনিক-১ পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেওয়ার স্মৃতি ফিরিয়ে রাশিয়া এবার করোনাভাইরাসের টিকার লড়াইয়েও প্রতীক করল সেই স্পুটনিককেই। দেশটি করোনাভাইরাস মোকবিলার টিকার নামকরণ করেছে স্পুটনিক-৫। এ যেন সেই স্নায়ুযুদ্ধের স্মৃতি জাগানিয়া ঘটনা।

স্নায়ুযুদ্ধকালের সোভিয়েত যুগকে যেন ভুলতে পারছে না রাশিয়া। সে সময় সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার লড়াইটা ছিল মহাকাশ নিয়ে। আর এবারের লড়াইটা করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবন নিয়ে।

১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর বিশ্বে মহাকাশে প্রথম পাড়ি দিয়েছিল সোভিয়েত কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক-১’। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাকে টেক্কা দেওয়ার সাফল্যে উদ্বেলিত হয়েছিল মস্কো।

এবার টিকার লড়াইয়েও বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়া কোভিড-১৯ টিকার অনুমোদন দিয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। টিকার এ অনুমোদনকে স্পুটনিকের ওই সাফল্যের সঙ্গে এক করেই দেখছে রাশিয়া। টিকাটিকে বিজ্ঞানে রাশিয়ার শক্তির প্রমাণ হিসেবে চিত্রিত করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।

যদিও মানুষের ওপর দুই মাসেরও কম সময় পরীক্ষা চালানোর পর চূড়ান্ত পরীক্ষার আগেই অনুমোদন পেয়েছে এ রুশ টিকা। তবে মঙ্গলবার রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেওয়ার পর টিকাটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পথে আর কোনো বাধা নেই। বিশ্ববাজারে এ টিকা এখন পরিচিতি পাবে বিশ্বের প্রথম সেই স্যাটেলাইটের নামে ‘স্পুটনিক-৫’ হিসেবে।

রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান কিরিল ডিমিত্রিয়েভ বলেন, এরই মধ্যে বিশ্বের ২০টির বেশি দেশ থেকে ১০০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের অনুরোধ পেয়েছেন তারা। তবে তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত পরীক্ষার আগেই রাশিয়া তাড়াহুড়া করে এই টিকা অনুমোদন দেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যিকারের বিজ্ঞান এবং নিরাপত্তার দিকটির চেয়ে মস্কো জাতীয় মান-মর্যাদাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কিনা- সেটিই প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের।

 

"